আশরাফ হোসেন পল্টু –
৮ম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী অসুস্থতার কারনে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো। স্কুল ছুটির আগেই ফেরার কারনে একাএকা ফিরছিলো সে। পথিমধ্যে নির্জন গ্রামীন রাস্তায় নিজেকে ইমাম পরিচয় দানকারি এক ব্যক্তি ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। শ্রীপুরের দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।
এলাকাবাসী ও দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কানন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টার সময় স্থানীয় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির জনৈক ছাত্রী অসুস্থতার কারনে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলো। পথিমধ্যে দ্বারিয়াপুর ফোরকান আলী দাখিল মাদ্রাসার নিকট পৌছালে উক্ত লম্পট যুবক তাকে দাড়াতে বলে এবং অসুস্থ্যতার অজুহাতে তার বাই সাইকেলটি একটু ধরার জন্য অনুরোধ করে।
মেয়েটি সরল মনে যুবকের বাই সাইকেলটি ধরামাত্রই ওই যুবক সুকৌশলে মেয়েটিকে পিছন দিক দিয়ে জাপটে ধরল শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। আতংকিত মেয়েটি চিৎকার করে জ্ঞান হারালে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে লম্পট ওই যুবককে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং গণধোলায় দিয়ে দ্বারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে আটকে রাখে। এরপর বিষয়টি শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে বিষয়টির সত্যতা পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। দন্ডপ্রাপ্ত আরিফুল ইসলাম (২২) রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার দহর পাচুরিয়া গ্রামের আঃ আজিজ মিয়ার পুত্র।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্হলে গিয়ে অভিযুক্তকে প্রশ্ন করা হলে সে মৌখিক এবং লিখিতভাবে তার অপরাধ স্বীকার করে। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে এমন কাজ করেছে বলে সে জানায়। শাস্তিস্বরূপ অভিযুক্তকে ৩মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ ঘটিনা জানাজানি হওয়ায় তাৎক্ষনিক উক্ত স্কুলে গিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তাদের মাঝে সাহস সঞ্চার করার চেষ্টা করেন ইউএনও। মেয়েদের জন্য নিরাপদ সমাজ তৈরীতে করতে তিনি সকলের সর্বাত্মক সহোযোগিতা কামনা করেছেন।


