মাগুরার গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ সড়ক এখন রবিশস্য মাড়াইয়ের আঙিনা হিসাবে ব্যবহার করছেন সড়কের আশপাশের লোকজন। এতে সড়কগুলোয় যান চলাচল চরম ঝঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দূর্ঘটনা।
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের চোখের সামনে এ ঘটনা ঘটলেও কেউ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে ভূক্তভোগিদের অভিযোগ। এতে দিন দিন বেড়েই চলেছে জনদূর্ভোগ ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় এখন রবিশস্য কর্তনের পর মাড়াইয়ের ভরা মৌসুম চলছে। কৃষক মাঠ থেকে রবিশস্য মসুর, গম, সরিষা, ধনিয়া, তিষি, ছোলা, খেসারি ও মটরসহ বিভিন্ন শস্য কর্তন করে মাড়াই করছেন।
মাড়াই কাজে বাড়ির আশপাশের পাঁকা সড়কই কৃষকদের প্রথম পছন্দ। পিঁচঢালা সড়কে বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ফসল দ্রুত মাড়াই হয় বলে এ কাজে সড়ক ব্যবহার করছেন তারা। এতে সড়কগুলো যানচলাচল ও পথচারীদের জন্য বিপদজ্জনক হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দূর্ঘটনা।
মাগুরায় চারটি উপজেলার ৩৬ ইউনিয়নে প্রায় ৭০০টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামের কমবেশী সব পাঁকা সড়ক এখন রবিশস্য মাড়াইয়ের আঙিনা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়ক জুড়ে মসুর গম ও ধনিয়ার গাছ বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, বাড়ির আঙিনায় রবিশস্য মাড়াই করতে শ্রমিকের ব্যয় ও সময় সাপেক্ষ। কিন্তু পাঁকা সড়কে শস্য বিছিয়ে দিলে একদিনে মাড়াই হয়ে যায় এতে শ্রম ও অর্থ দুইই সাশ্রয় হয়।
গাংনালিয়া গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম, সর্দারপাড়ার কৃষক বাবুল ও রহমান বলেন, মানুষের উপকারের জন্য সরকার সড়ক তৈরী করে দিয়েছেন৷ সারা বছর সড়ক দিয়ে গাড়ি-ঘোড়া চলে, আর কৃষকেরা মাস খানেক ধান মাড়াই করেন এটাই দোষের৷
বাস, অটো ও গ্রামবাংলা চালক মিন্টু, সোলেমান ও ইয়াসিন অভিযোগ করেন বলেন, ধানকাটা মৌসুমে এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করা মারাত্মক ঝুকিপুর্ণ৷ কৃষকেরা সড়ক জুড়ে ধান ও খড় বিছিয়ে রাখেন৷ নিষেধ করলে উল্টো তারাই মেজাজ দেখান৷


