মাগুরানিউজ.কমঃ
ভাদ্র মাস আগত প্রায়। গ্রামগঞ্জে এখনই পাকা তালের গন্ধ। পাকা তালের মন মাতানো সৌরভে চারদিক একেবারে মৌ মৌ। ইতিমধ্যেই হাট-বাজারে বিভিন্ন আকারের লাল কালচে আভার পাকা তাল চলে এসেছে। দু’এক মাস আগে বাজারে কাঁচা তালের রসালো শাঁস রসনা মিটিয়েছে। এখন পাকা তাল।
মাগুরা শহরের নতুন বাজার রাস্তার মোড়ে ঝুড়িতে তাল নিয়ে বসে আছেন তাল বিক্রেতা প্রভাত। জানালেন বেচাকেনা মন্দ নয়। সপ্তাহ খানেক আগে থেকে পাকা তাল বাজারে এসেছে।
এদিকে তাল বিক্রিতে পিছিয়ে নেই গ্রামের বিক্রেতারাও। বিত্তবানরাও এখন তাল কিনে তার রস বের করে প্যাকেটে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিচ্ছে। যখন তালের মৌসুম নয়, তখন তালের পিঠা পায়েস খাওয়ার জন্য। তালের রসে পিঠা তৈরির উৎকৃষ্ট সময়।
কালের পরিক্রমায় সুস্বাদু তাল ও অতিমূল্যের তালিকা দখল করায় পিঠাপ্রেমী বাঙালির রসনাবিলাস ভাটার টান লেগেছে। তবে বাজারে বিক্রেতারা এখনো বিভিন্ন আকারের পাকা তালের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে পাকা তালের রূপগন্ধ পরখ করে দেখলেও দামের কারণে কিনছে কম।
তাল বিক্রেতা সমীরণ জানান এখন পাকা তালের দাম বাড়তি কিছুদিন পর আরও বাড়বে। বাজারে প্রতিটি তাল রকমভেদে ৩০ টাকা থেকে ১০০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। পচনশীল হওয়ার কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার একটু বেশি দামেই তাল বিক্রি হচ্ছে।
নতুন বাজারের গুড় বিক্রেতা অখিল জানান, তালের পিঠা তৈরিতে পাকা তালের রস, চালের গুড়া, কলা, নারকেল, গুড় সব মিশিয়ে পিঠা তৈরিতে এখন অনেক খরচ পড়ে যাচ্ছে। এ কারণে অনেকের পক্ষে এই তালের পিঠার স্বাদ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাল পিঠা অনেক মজার হলেও বানাতে অনেক পরিশ্রম ও কষ্ট সহ্য করতে হয়। তবুও এই এলাকার মানুষ বছরে একবার হলেও তালপিঠা স্বাদ গ্রহণ করেন এবং প্রথা অনুযায়ী মেয়ে-জামাইয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে থাকেন।


