মহসিন মোল্যা, বিশেষ প্রতিবেদক-
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চুরি ও ছিনতাইয়ের মত ঘটনা বেড়েছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে টাকা, দামি গয়নাসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা। মূলত হাসপাতালে সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে চুরি-ছিনতাইয়ের টার্গেট করে চক্রটি।
হাসপাতাল ঘুরে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের বহির্বিভাগে নানা বয়সী শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। দীর্ঘ লাইন পড়ে টিকিট কাউন্টার ও চিকিৎসকদের রুমের সামনে। রোগীদের এ উপচে পড়া ভিড়ে অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এরই সুযোগে একটি চক্র নারীদের ব্যাগ থেকে টাকা, দামি গয়নাসহ নানা মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী তখলপুর গ্রামের নূর জাহান বেগম বলেন, আজ সকালেই জামাইকে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে আসি। টিকিট কেটে ডাক্তার রুমের ডাক্তার দেখানোর পর দেখি ব্যাগে ১০ হাজার টাকা নেই। আমার সামনেই আরেক জনের কানের দুল নিয়ে গেছে। এই হাসপাতালে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই।
উপজেলার হোগলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নন্দিতা দাস বলেন, আমি টিকিট কাউন্টারে সামনে দাড়িয়েছিলাম। আমার সামনে একজন এবং আমার পেছনে বোরখা এক নারী ছিলেন। আমি ভ্যানেটি ব্যাগের ভিতরে রাখা পার্স বের করে ১০ টাকার টিকিট কেটে পুনরায় পার্সটি ভ্যানেটি ব্যাগে রাখি। পরে দেখি আমার ভ্যানেটি ব্যাগের ভিতরে রাখা সেই পার্সটি নেই। ওই পার্সের ভিতর ১০ হাজার টাকা ছিল।
ফরিদা বেগম নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, আমি হাসপাতালে টিকিট কাউন্টারে দাড়িয়ে টিকিট কাটছিলাম। পেছন থেকে বোরখা পরা এক নারী আমার গলার চেইনে হাত দেয় আমি বুঝতে পারি। খুব গরম পড়ছিল। টিকিট কাটার পরেও গলায় হাত দিয়ে দেখি চেইন আছে। পরে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় ফিরে দেখি গলার চেইনটি নেই।
রুনা বেগম বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে এভাবে যদি টাকা খোয়া যায়, তাহলে কোথায় যাব? বাড়ি ফেরার জন্য ভ্যান ভাড়াটাও নেই।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন, চোরেরা মূলত চিকিৎসা নিতে আসা নারীদের টার্গেট করে। বিভিন্ন সময়ে সেবা নিতে এসে শুধু এই হাসপাতাল থেকেই অর্ধশতাধিক নারীর স্বর্ণের চেইন ও টাকা চুরি হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা প্রতিনিয়তই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা আরও বাড়ছে।
দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম প্রদীপ বলেন, হাসপাতালটি আমাদের এলাকায়। অহরত এমন ঘটনায় আমাদের এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, অহরত এমন ঘটনায় আমরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। অনেক চেষ্টার পরেও চোর সনাক্ত করতে পারছি না। চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সমন্বিত চেষ্টায় এ ব্যাপারে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

