মাগুরানিউজ.কমঃ
হাইড্রোজ মিশিয়ে মেশিনে ভেজে মুড়ি বড় ও সাদা করে কম দামে বিক্রি করছেন মুড়ি কারখানার মালিকেরা। এতে খরচ ও পরিশ্রম উভয়ই কম লাগে। তাই এদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টেকা কষ্টকর হয়ে উঠেছে মাগুরার মুড়ি কারিগরদের।
স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর জেনেও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে হাইড্রোজ মিশিয়ে, মুড়ি বড় ও সাদা করে বিক্রি করছেন অসাধু এই ব্যবসায়ীরা। অথচ যারা বাড়িতে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে হাতে মুড়ি ভাজছেন, তারা টিকে থাকতে না পেরে অনেকেই পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মাগুরা সদরের নিজনান্দুয়ালী এলাকার মুড়ি তৈরির কারিগর চন্দ্রিমা জানান, মুড়ির চাল কিনে বাড়িতে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করেন। এরপর লবণ মেখে রেখে দেন। তার পর রোদে শুকিয়ে হাতে মুড়ি ভাজেন। এক সঙ্গে দুই চুলায় এক হাড়িতে চাল এবং অন্য হাড়িতে বালি গরম করতে হয়। তারপর তপ্ত বালিতে চাল ভালোভাবে গরম হলে ঢেলে দ্রুত কাঠি দিয়ে নাড়লেই তৈরি হয় হাতে ভাজা মুড়ি।
তিনি হতাশা ব্যক্ত করে জানান, মুড়িকে আকর্ষণীয় ও আকারে বড় করতে ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে ক্ষতিকারক হাইড্রোজ। আর এই অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারছে না এলাকার শতাধিক নারী ব্যবসায়ী। তাই বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন তারা।
অন্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে মুড়ির চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ কারণে এলাকার শতাধিক নারী এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোরে মুড়ি ভাজার কাজ শেষ করেই হেঁটে মাথায় মুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন এই গ্রাম থেকে ওই গ্রামে আর কেউবা শহরে।
একই গ্রামের মুড়ি ব্যবসায়ী কাকলি বলেন, রমজানে মুড়ির চাহিদা অনেক। কিন্তু পুঁজির অভাবে ঠিকমতো মুড়ি সরবরাহ করতে পারছি না।
ছবি- সংগ্রহ


