মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরা জেলা শহরে অনুমোদনহীন এয়ারকুলার (এসি) ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। শুধু শহর নয়, এর ব্যবহার শুরু হয়েছে গ্রামেও। তবে এসব এসি ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ওভারলোডিংয়ের কারণে প্রায়ই ট্রাসফরমার পুড়ে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি লো-ভোল্টেজের কারণে সাধারণ গ্রাহক বিপাকে পড়ছেন।
এসি ব্যবহারকারীর তালিকায় রয়েছে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, সরকারি চাকরিজীবী, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডাক্তার ও বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ। এরা সরকারি নিয়মনীতি মেনে এসি ব্যবহার করছে এমন কোনো কাগজপত্র বা রেকর্ড বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে নেই। ব্যাপক আকারে এসি ব্যবহারে শহরজুড়ে চলছে লোডশেডিং। লো-ভোল্টেজের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের বাড়িতে ফ্যান ঘুরছে না, টিভি, ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ট্রাসফরমারগুলোর লো-ভোল্টেজের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। অনেক সময় ওভারলোডের কারণে ট্রাসফরমার পুড়ে যাচ্ছে। এসব অবস্থার পরও এসি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
গ্রাহকরা জানান, টাকার বিনিময়ে মিলছে অবৈধ এসি সংযোগ। অনুমোদনহীন এসি ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বেড়েছে- এমনটি স্বীকার করে মাগুরা বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিমল কান্তি দাশ জানান, এসি ব্যবহারের কারণে বিদ্যুতের লোড বৃদ্ধি হয়, যার কারণে আবাসিক বা ব্যাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এসি ব্যবহারের পূর্বে বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতি নেওয়ার সরকারি বিধান রয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে একজন গ্রাহকও অনুমোদন নিয়ে এসি ব্যবহার করছেন না।
এসি ব্যবহারকারী কয়েকজন গ্রাহক জানান, বাজার থেকে এসি কিনে বিদ্যুৎ বিভাগকে কিছু টাকা দিলেই লাগিয়ে দেয়, আর তারাও তো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন।
মাগুরা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র সূত্র জানায়, জেলা শহরে বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার, বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে প্রায় চার হাজার এবং এলটিআই সংযোগ রয়েছে এক হাজার। মাগুরা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় সহস্রাধিক গ্রাহক এসি ব্যবহার করছেন অনুমোদনহীনভাবে। অথচ গত এক বছর এসি ব্যবহার করার জন্য একটাও দরখাস্ত পড়েনি।
মাগুরা এয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) লিমিটেডের আবাসিক প্রকৌশলী মাহমুদুল হক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। অতি দ্রুত অবৈধ এসি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


