মাগুরানিউজ.কম:
ঈদে নতুন জামার পাশাপাশি নতুন জুতা এনে দেয় বাড়তি আনন্দ। তাইতো ছেলে-বুড়ো সবারই ঈদে নতুন জুতা যেন চাই ই চাই। আর এই ঈদকে কেন্দ্র করে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মাগুরার পাদুকা শ্রমিকরা।
এসব কারখানায় আধুনিক ডিজাইন, মানসম্মত, টেকসই ও রুচিশীল জুতা তৈরি হচ্ছে। লালা, রক্সি, জিপসি, সিটি, ইসপিসহ নানা নামের আরামদায়ক জুতা এখন ছেলে-বুড়োসহ সব বয়সী মানুষের প্রথম পছন্দ।
এদিকে প্রতি বছর ঈদ মৌসুম এলেই এ অঞ্চলের পাদুকা শ্রমিকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ঈদকে কেন্দ্র করে এখন দিন-রাত একযোগে জুতা তৈরির কাজ করছেন শ্রমিকরা।
সরেজমিনে গত শুক্রবার দুপুরে কয়েকটি পাদুকা করাখানা ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকরা জুতা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের যেন একটু দম ফেলারও ফুরসত নেই। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে জুতা তৈরির কাজ। এসব জুতা পাইকারদের মাধ্যমে হাত বদল হয়ে চলে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের পায়ে।
গত শতাব্দির ৯০ দশকের শুরুতে মাগুরা শহরের ঋষি রোড়ে পাদুকা শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ শিল্পের প্রারম্ভিক যাত্রাই যাদের নাম উল্লেখযোগ্য তারা হলেন খগেন দাস, জিতেন দাস ও কুরবান মিয়া।
মাগুরায় তৈরি জুতা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হতো। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এ জুতার চাহিদা ছিল। মাগুরার একসময়ের ঐতিহ্যবাহী পাদুকা শিল্পের বাজার এখন আর ভালো নেই। এ শিল্পের বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে পুঁজি সংকট। এ সংকটের কারণে অনেকেই চড়া সুদে মহাজনি ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
স্থানীয় জুতা-স্যান্ডেল কারখানার মালিক ওয়াশিম কুমার দাস জানান, আগে ৩২টি কারখানায় নিয়মিত ৯০ থেকে ১০০ জন কারিগর কাজ করতেন। বর্তমানে মাত্র পাঁচটি কারখানায় ২০ থেকে ২৫ জন কারিগর কাজ করেন।
এ শিল্পের শুরু থেকেই কর্মরত রবীন্দ্র কুমার দাস জানান, শ্রমিকের মুজুরি কম হওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে রিকশা, ভ্যান বা অটো চালাচ্ছে। এছাড়া ২০ থেকে ২৫ জন কারিগর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। কম পুঁজি এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে মাগুরার জুতার বাজারে আজ এ বেহাল দশা।


