মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের গৃহীনিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে মুড়ি তৈরির কাজে। রমজান মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে তাদের এই ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ। গৃহিনীদের হাতে ভাজা স্বাদে ভরপুর এই মুড়ির কদর সারা বছরের চাইতে রমজানে অনেক বেশি। বিশেষ করে শহর সংলগ্ন নিজনান্দুয়ালী গ্রামের গৃহবধুরা পরম মমতা দিয়ে এই মুড়ি তৈরি করছেন।
নিজনান্দুয়ালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে বাড়িতে হাতে ভাজা মুড়ির সুবাস। পরিবারের সবাই ব্যস্ত মুড়ি তৈরির কাজে। প্রথম রজমানের দুই এক দিন আগে থেকে প্রতি দিন তারা দুই থেকে চার মন মুড়ি মাটির চুলোয় ভেজে বিক্রি করছে। পাইকাররা এখান থেকে মুড়ি কিনে জেলা শহরের বড় বড় দোকানে নিয়ে বিক্রি করে থাকে। এছাড়া এই অঞ্চলের মুড়ির কদর এতোই বেশি যার ফলে জেলার গণ্ডি পেরিয়ে তা চলে যাচ্ছে ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।
মুড়ি কারিগর গৃহবধূ আনোয়ারা বেগম বললেন, স্বামীর সংসারে যেদিন পা রেখেছি সেদিন থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি মুড়ি তৈরিতে। ১৫ বছরের অধিক সময় ধরেই মিশে আছি মুড়ি ভাজার কাজে। ফলে মুড়ি তৈরি ও বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা পেয়েছি। আমার বাড়ির হাতে ভাজা মুড়ির নাম ডাক অনেক জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়েছে।
ইউনুছ মিয়া নামের এক মুড়ির ব্যবসায়ী বলেন, হাতে ভাজা মুড়ির কদর সব চাইতে বেশি থাকে রমজান মাসে। এই মাসে প্রতিদিনই পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে মুড়ি কিনে তা শহরে বেশি দামে বিক্রি করে আসছে। আমরা যে মুড়ি তৈরি করি তাতে কোন ধরনের ভেজাল নেই। নেই কোন রাসায়নিক ক্ষতিকার পদার্থ। যার কারণে হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা বেশি। তবে সারা বছরের চাইতে রোজার সময় এর চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
গ্রামের মোঃ মজনু বিশ্বাস জানালেন, এক সময় এই গ্রাম মুড়ির গ্রাম হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রত্যেকটি বাড়িতে মুড়ি তৈরি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আধুনিক মেশিন দিয়ে রাসয়নিক পদার্থ মিশিয়ে মুড়ি উৎপাদন করায় এ অঞ্চলের মানুষ হাতে ভাজা মুড়ি তৈরিতে আগ্রহ হারিয়ে গেছে।
তারপরও এই মুড়িতে কোন ভেজাল নেই। আর রমজান মাসে ইফতারের জন্য এই মুড়ির চাহিদা বেশি।
ছবি- সংগ্রহ


