মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক-
মাগুরায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক স্কুলছাত্র। শিক্ষক ও সহপাঠিদের দেয়া মোবাইল ফোন চুরির অপবাদ তাকে আত্মহননে প্ররোচিত করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
সোমবার (১ অক্টোবর) রাতে নিজ বাড়ির শোবার ঘর থেকে মিশাউল সাদিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সে মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং শহরতলীর বেলনগন গ্রামের মাছুদুল হকের পুত্র।
নিহতের চাচাতো ভাই জাকারিয়া ও কয়েকজন সহপাঠি গণমাধ্যমে জানান, সাদিদ রবিবার স্কুলে গিয়ে আবিদ নামে তার এক সহপাঠীর ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোন নিয়ে লুকিয়ে রাখে। মোবাইল ফোন না পেয়ে আবিদ সেটি স্কুলের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে এক পর্যায়ে সাদিদ তার ফোনটি ফেরত দেয়। সাদিদ তখন সহপাঠিদের বলেছিলেন, স্কুলে মোবাইল ফোন আনা নিষেধ বলে আবিদকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য দুষ্টমি করে মোবাইল ফোনটি লুকিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে আরেক শিক্ষার্থী ঘটনাটি স্কুলের বিএনসিসি শিক্ষক ফিরোজ হোসেন ও অফিস সহকারী আকরাম হোসেনকে জানালে তারা সাদিদকে চোর আখ্যায়িত করে তাকে তাৎক্ষনিক বিএনসিসি থেকে বহিস্কার করেন। তারা ঘটনাটি সাদিদের বাবাকে জানালে বাড়িতেও তাকে গালমন্দ করা হয়। এ কারণে সাদিদ আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি দুঃখজনক। তিনি ছাত্রদের শান্ত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
সদর থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে স্কুলের অফিস সহকারী আকরাম হোসেন মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে গালমন্দ ও পরিবারের কাছে নালিশ করায় স্কুল ছাত্র সাদিদ আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার সদস্যরা থানায় অাত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

