গরমে ওরস্যালাইন কেন? Magura news

ডাঃ রাহুল মিত্র- 

মানব শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হল ৯৮.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট। বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার পরিবর্তন হলেও আমাদের শরীরের মূল তাপমাত্রার পরিবর্তন হয় না। এটা হওয়ার কারণ হল, আমাদের শরীর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বা ‘কোর টেম্পেরেচার’ ধরে রাখতে নানা ধরনের উপায় অবলম্বন করে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উপায় হল ত্বকের মাধ্যমে ঘাম বের করে দেয়া। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে এই ঘাম তাপ সঙ্গে নিয়ে বাতাসে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। ফলে শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। সেই কারণেই শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকে। তবে ঘাম আবার দুই ধরনের হয়। এক ধরনের ঘাম আছে যা শরীর থেকে দরদর করে ঝরে। এই ধরনের ঘাম আমরা চোখে দেখতে পাইএবং আরেক ধরনের ঘাম বের হয় যা আমরা চোখে দেখতে পাই না। কিন্তু তা শরীর থেকে বের হয়। আসলে আমাদের ত্বকে থাকে রক্ত জালিকা। বাইরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে মস্তিষ্কের নির্দেশে স্নায়ুর মাধ্যমে ত্বকের নিচে থাকা ঘর্ম গ্রন্থি গুলো উত্তেজিত হয় এর ফল স্বরূপ ঘাম বের হয়। অতিরিক্ত পরিশ্রমেও শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। আমাদের শরীর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি আটকাতে ত্বকের নীচের রক্তজালিকায় বেশিমাত্রায় রক্ত পৌঁছে দেয়। এ কারণে সেখানে অবস্থিত ঘর্ম গ্রন্থি থেকে জলের সাথে খনিজ লবণ সাথে নিয়ে ঘাম হিসেবে বেরিয়ে আসে ও জলীয়বাষ্পরূপে বাতাসে মিশে যায়। দরদর করে ঘাম বেরনো বন্ধ হলেও ত্বক থেকে জলীয়বাষ্প রূপে ঘাম বেরনো বন্ধ হয় না।

বেশি মাত্রায় ঘাম বের হলে শরীরে পানির মাত্রা হ্রাস পায়। এই ঘাটতি পূরণ করার দরকার পড়ে। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামে অংশ তখন পিপাসার উদ্রেক ঘটায়। এরপর আমরা পানি পান করি ও শরীরের পানির অভাব পূরণ করি। ঘাম হওয়া ছাড়াও ইউরিন, বমি ও ডায়ারিয়ার কারণেও শরীরে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমেই শরীরে পানির জোগান বজায় রাখতে হয়। ঘাম, ইউরিন, বমি ও ডায়ারিয়ার মাধ্যমে পানির সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় কিছু খনিজও বেরিয়ে যায়। এই খনিজের মধ্যে অন্যতম হল সোডিয়াম ও পটাশিয়াম। শরীর থেকে খনিজ বেরিয়ে গেলে পেশিতে টান ধরতে শুরু করে। ফলে শরীরে জড়তা আসে, অস্বস্তিভাব শুরু হয়, এমনকী কথাবার্তা অসংলগ্ন ও হয়ে পড়ে।

গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঘাম বেরনোর কারণে পেশিতে টান ধরা ছাড়াও হিটস্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এক্ষেত্রে শরীর গরম হয়ে ওঠে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে যায়। হিটস্ট্রোকের রোগী অজ্ঞান হয়ে যান। এমনকী রোগীর অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। পেশিতে টান ধরলে কিংবা হিটস্ট্রোক হলে বুঝতে হবে রোগীর শরীরে পানি ছাড়াও খনিজের অভাব ঘটেছে। সেক্ষেত্রে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) অত্যন্ত উপযোগী।

হু-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি এক লিটার ওআরএস তৈরির জন্য দরকার ২.৬ গ্রাম সোডিয়াম ক্লোরাইড, ১৩.৫ গ্রাম গ্লুকোজ , ১.৫ গ্রাম পটাশিয়াম ক্লোরাইড, ট্রাইসোডিয়াম সাইট্রেট ২.৯ গ্রাম। এক্ষেত্রে গ্লুকোজ শরীরকে তৎক্ষণাত শক্তির জোগান দেয়। একই সাথে সোডিয়ামও পানির ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম, সাইট্রেট বজায় রাখে দেহে অম্লও ক্ষারের ভারসাম্য।

আমাদের মতো গ্রীষ্ম প্রধান দেশে সবসময় দরদর করে ঘাম না হলেও জলীয়বাষ্পের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বেরিয়েই যাচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র রোদে বেরিয়ে শ্রম দিতে হয় এমন মানুষের ক্ষেত্রে ঘাম ও জলীয়বাষ্পের আকারে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়া ঠেকাতে হলে নিয়মিত ওআরএস পান করতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে তৈরি হয়েছে এমন ওআরএস-এর প্যাকেট কিনে এক লিটার পানিতে মেশাতে হবে।
এইভাবে দুই থেকে তিন লিটার ওআরএস তৈরি করে পান করতে পারেন সারাদিনে। তবে যাঁরা গ্রীষ্মের দিনে অফিসে বসে কাজ করেন তাঁদের সারাদিনে নিয়ম মেনে তৈরি করা একলিটার ওআরএস পান করবেন। কিডনি রোগীবা হার্ট ফেলিওর এর রোগী চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই ওআরএস পান করবেন। কারণ এঁদের পক্ষে সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং অতিরিক্ত পানি ক্ষতিকারক হতে পারে। একবার পানিতে মেশানো হয়ে গেলে সেই পানীয় চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে পান করতে হবে।

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
%d bloggers like this: