মাগুরানিউজ.কমঃ
চার রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে পরেছে মামলার বাদী ও সাক্ষীরা। মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে বাদী এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পলাতক ছিলেন। সাক্ষীরাও আতঙ্কে রয়েছেন।
গত ৬ এপ্রিল মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালি গ্রামের রজব আলী বিশ্বাসের ছেলে খোকন বিশ্বাস বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামিরা হলো- যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের মৃত. সোবহান মোল্লার ছেলে আমজেদ মোল্লা ও কেরামত মোল্লা, একই গ্রামের মৃত বুধোই মোল্লার ছেলে ওহাব ও একই উপজেলার খুদড়া গ্রামের মৃত মনসুর আলী মোল্লার ছেলে ফসিয়ার মোল্লা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মাগুরার সীমাখালি বাজারের পাশে বাদীর বাড়ি সংলগ্ন আমবাগানের দাঁড়িয়ে ছিলেন আসামি আমজেদ রাজাকারের নেতৃত্বে ১০/১২ জন। সে সময় আসামিরা তার বাবাকে অপহরণ করে যশোরের বাঘারপাড়া থানার চাঁদপুর গ্রামে ইফাজ মোল্লার আম বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে বাদীর বাবাকে গামছা দিয়ে চোখ ও দড়ি দিয়ে হাত বেঁধে বাগানের দক্ষিণ পাশে নিয়ে দুপুর ১টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। পরে বাদী ও সাক্ষীরা বিকেল ৫টার দিকে বাদীর বাবার লাশ গরুর গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে এনে কবর দেন।
৬ এপ্রিল মাগুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসু বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী খোকন বিশ্বাস গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলেন, কুখ্যাত আমজেদ রাজাকারের নেতৃত্বে আমার বাবাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়। বাবা হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছি। মামলা করার পর থেকে আসামিরা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বাড়িঘর রেখে এক সপ্তাহ পালিয়ে ছিলাম। পরে আমার ভাইরা আমাকে বাড়িতে এনেছে। আমি আমার বাবা হত্যার বিচার চাই।


