মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক –
১৯৭১ এ নিখোঁজ আব্দুল হামিদকে অবশেষে ফিরে পেলেন তার স্বজনেরা। মানসিক সমস্যার কারনে ১৯৭১ সালের প্রথম দিকে তাকে নেওয়া হয় ফরিদপুরের আটরশি দরগাহ্ শরিফে। সেখান থেকে হারিয়ে যান তিনি। বয়স এখন ৮০ এর কাছাকাছি। মাগুরার মহম্মদপুরের বালিদিয়া ইউনিয়নের নিখড়হাটা গ্রামের মৃত আব্দুল করিম মোল্যার ছেলে আব্দুল হামিদ দুটি কন্যা সন্তানের পিতা। হারিয়ে যাওয়ার পর স্ত্রী রিজিয়া বেগমের অন্যত্র বিয়ে হয়েছে। ৮ অক্টোবর নিজ বাড়িতে ফিরেছেন আব্দুল হামিদ। তাকে একনজর দেখার জন্য সেখানে উৎসুক জনতার ভিড়।
স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, আব্দুল হামিদ মোল্যা নামে ওই ব্যক্তিকে মানসিক সমস্যার জন্য ১৯৭১ সালে ফরিদপুরের আটরশি দরগাহ্ শরিফে নেয়া হয়। সেখান থেকে হারিয়ে যান তিনি। অনেক চেষ্টা করেও তাকে খুঁজে পাননি পরিবারের সদস্যরা।
সেপ্টেম্বর মাসে নিখড়হাটা গ্রামের জনৈক ছাত্তার মোল্যা অসুস্থ্য হওয়ায় চিকিৎসা নিতে যান ফরিদপুর মেডিকেলে। সেখানেই হটাৎ তিনি আব্দুল হামিদের মতো একজনকে দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তিনি হাসপাতাল কতৃপক্ষের কাছে তার পরিচয় জানতে চান। হাসপাতাল থেকে তিনি জানতে পারেন, প্রায় ১৫ বছর যাবৎ হাসপাতালে আছেন ওই ব্যক্তি। তবে নিজের নাম “আব্দুল হামিদ” ছাড়া আর কিছু বলতে পারেন না তিনি। প্রায় ১৫ বছর আগে ফরিদপুর শহরে একটি সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হন আব্দুল হামিদ। সাধারন জনতা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারপর থেকে সেখানেই আছেন আব্দুল হামিদ।
এরপর ছাত্তার মোল্যা নিখড়হাটা গ্রামের বাদশা মোল্যার সাথে যোগাযোগ করেন। আব্দুল হামিদ ফরিদপুরে আছেন এমন খবরে তার স্বজনেরা ছুটে যান ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং নিশ্চিত হন তিনিই আব্দুল হামিদ। অবশেষে সোমবার ৮ অক্টোবর তাকে নিখড়হাটা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। আব্দুল হামিদকে একনজর দেখার জন্য সেখানে উৎসুক জনতার ভিড়।
ছবি-সংগ্রহ।

