মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক –
মাগুরা শহরসহ সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে সন্ধ্যা থেকেই চলাচল করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। এর অন্যতম কারণ বিভিন্ন যানবাহনের হেড লাইটে এলইডি লাইটের ব্যবহার। যানবাহনের হেডলাইট হিসাবে এলইডি’র ব্যবহার সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজন রায় বলেন, জীবনের শুরু থেকেই মোটরসাইকেল চালান তিনি। মোটরসাইকেল চালানোর এত বছরের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি এখন চালাতে ভয় পান। বর্তমানে যে কোনো ব্যক্তি রাতে শহরসহ সড়ক-মহাসড়কে বের হলেই গাড়ির হেডলাইটের যন্ত্রণায় পড়বে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনের সাথে লাগানো এলইডি লাইটের আলো চলাচলের সময় ব্যাপক ভাবে চোখে পড়ায় সাধারণ মানুষের পথ চলতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এই আলো চোখে পড়া মাত্র যেন চোখ ধাঁধিয়ে যায়। যার ফলে প্রতিনিয়ত মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
শহরের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি অটোভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি, থ্রি-হুইলার , লাটা হাম্বার, আলমসাধু, নছিমন, করিমন, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য অনেক যানবাহনে এলইডি লাইটের ব্যবহার সর্বত্রই। কারণ একটু বেপরোয়া হলেই ঘটবে দুর্ঘটনা। এলইডি লাইটের অধিক ব্যবহারের দিকে ট্রাফিকপুলিশ প্রশাসনের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।
ট্রাক ড্রাইভার আরজ আলী বলেন, শহর, সড়ক ও মহাসড়কে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকারসহ বেশিরভাগ গাড়ির হেডলাইটের ওপরের অংশে এখন আর কালো রং ব্যবহার করা হয় না। আগে গাড়ির হেডলাইটের প্রায় এক ইঞ্চি কালো রং করা না থাকলে পুলিশে ধরত। এখন আর ধরে না তাই কেউই কালো রং করে না। তবে ঢাকায় কালো রং করা না থাকলে পুলিশে ধরে জরিমানা করে। অনেক সময় মামলা দেয়।
চক্ষু চিকিৎসক তন্ময় বলেন, এই লাইটের প্রভাবে ম্যাকুলা বার্ন হতে পারে এবং প্রতিটা মানুষের চোখে কর্নিয়া থাকে আর এই আলো সরাসরি চোখে লাগলে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন এভাবে আলো চোখে লাগতে থাকলে কর্নিয়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যাতে করে চোখে কম দেখা, ঝাপসা দেখাসহ আস্তে আস্তে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

