”পানির জন্য একের পর এক মৃত্যু”-মাগুরাবাসি আর এগুলো জানবেন না!!! (পর্ব-১৩)

মাগুরানিউজ.কমঃ

mnবিশেষ প্রতিবেদন- 

আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকারও। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, মাগুরা নিউজ জানাচ্ছে এমন কিছু তথ্য যা জেনে আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন, আপনি বলবেন…….. । সাথে থাকুন আর জানুন জানা-অজানা আপনার মাগুরাকে। শেয়ার করে সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।

২২ মার্চ সারা বিশ্বে পালিত হয় পানি দিবস। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক অধিবেশনে একটি বিশেষ দিনকে স্বাদু পানি দিবস হিসেবে পালন করার কথা সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৯৩ সালের ২২ শে মার্চকে প্রথম আন্তর্জাতিক পানি দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হয়।এ বছর এর ২৪তম বর্ষের বিশ্ব পানি দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। ঠিক এসময়ে মাগুরাতে বিশুদ্ধপানির অভাবে কি ঘটছে জানুন।

১৩ তম পর্ব-

”পানির জন্য একের পর এক মৃত্যু”

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রাম। আর দশটি গ্রামের মতই সবুজ এর প্রকৃতি, তবে আর্সেনিক নামের ভয়ানক বিষ যেন অভিশাপ হয়ে এসেছে এখানে। আর্সেনিকের ভয়ানক ছোবলে কারো নেই হাত, কারো বা পা, আবার অনেকেই বিকলাঙ্গ কিংবা অসুস্থ। গত এক যুগে কেবল মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামেই এ রোগে মারা গেছেন ১১ জন।

আক্রান্তদের কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে গেলেও, মৃত্যু ভয় কাটছে না এলাকাবাসীর। 

এ গ্রামের মুন্সী পাড়ার বাসিন্দা প্রভাতী বিবি। ১০ বছর আগে আর্সেনি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার ভাসুর সবুর মুন্সি। এর এক বছরের মাথায় মারা গেছেন ননদ রিজিয়া। আর্সেনিক আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। গেলবছর শীতে মারা গেছেন স্বামী শহীদ মুন্সী।

ভানুমতির মত হোগলডাঙ্গা গ্রামের আর্সেনিক আক্রান্ত আরো অন্তত ১৫ জন। যাদের অনেকেই হারিয়েছেন নিকট আত্নীয়দের। চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত অনেকে আবার, বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্নটাও ছেড়ে দিয়েছেন।

আর্সেনিক আক্রান্ত রোগিদের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ঔষধ চালু আছে কিনা তাও জানেনা ভুক্তভোগীরা।

জনস্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, গ্রামের অসহায় এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের পক্ষ থেকেও নেই কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।

শ্রীপুর উপজেলার হোগলডাঙ্গা নয়, আর্সেনিকের প্রকোপ রয়েছে কাজলি, কমলাপুর এবং শালিখা উপজেলর সেওজগাতি গ্রামেও। এলাকাবাসী বলছেন, এসব এলাকায় সুপেয় ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে, তারাও হয়ত স্বপ্ন দেখতে পারবেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার।

প্রভাতী বিবিদের কান্না থামে না অজানা ভয়ে। যে পানি জীবন বাচায়, সে পানিই তাদের বেচে থাকার আতঙ্ক। তবুও তাদের জীবনের জন্য নিত্য যেতে হয় এ পানির সংস্পর্শে। ফলে বাড়ছে সংক্রামন। প্রায় ২ দশক ধরে আর্সেনিক নিয়ে আলোচনা, তবে কারো যেন মনে নেই ভানুমতিদের কথা। বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার চারিদিকে। এলাকার মানুষকে পানের জন্য ছুটতে হয় নদীতে। কিন্তু সেই পানি পানের উপযোগী নয়।

নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এসব অসহায় মানুষেরা হয়ত স্বপ্ন দেখতে পারবেন দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার।

এ বিষয়ে দ্রুত করনীয় নির্ধারনে ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করনে মাগুরাবাসীর সহযোগীতা কামনা করছে মাগুরানিউজ। আপনার মতামত ও সহযোগিতা জানান। সহযোগীতা করুন অসহায় ঐসব মানুষদের বেঁচে থাকতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
%d bloggers like this: