মাগুরানিউজ.কম:
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার রায়নগর গ্রামের মীর আরজ আলী (৩৫) কে বৃহস্পতিবার রাতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী রোজিনা বেগম ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে।
শ্রীপুর থানা পুলিশ শুক্রবার বিকেলে আরজ আলীর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মাগুরার মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ রোজিনা বেগমকে আটক করেছে।
পুলিশ ও পরিবারের লোকজন জানান, ছয় বছর পূর্বে শ্রীপুরের রায়নগর গ্রামের মৃত আতর আলী মীরের ছেলে আরজ আলীর সঙ্গে পাশের হাট দাড়িয়াপুর গ্রামের রেজাউল শেখের মেয়ে রোজিনার বিয়ে হয়। তাদের দু’টি কন্যা সন্তান রয়েছে।
সম্প্রতি স্ত্রী রোজিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গোপনে তিনি রোজিনার সঙ্গে দেখা করতেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছে। এক পর্যায়ে পাঁচ মাস আগে স্বামী আরজ আলীকে তালাক দিয়ে রোজিনা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে- ওই সময়ে তিনি তার প্রেমিককে বিয়ে করে বসবাস করেন। নতুন স্বামীর সঙ্গে বিরোধ হওয়ায় প্রাক্তন স্বামী আরজ আলীর কাছে ফিরে আসেন রোজিনা।
আরজ আলীর সংসারে ফিরে এসে রোজিনা আবার প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে নতুন করে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ওই যুবক প্রায়ই স্বামীর অবর্তমানে রোজিনার ঘরে আসা-যাওয়া করত বলে প্রতিবেশীরা জানান।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আরজ আলী ঘুমিয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ির অদূরে গড়াই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। লাশের মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ জানান।
অনেক খোঁজাখুজির পর এলাকার লোকজন আরজ আলীর লাশ গড়াই নদীতে ভাসতে দেখে পুলিশকে খরব দেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় পুলিশ স্ত্রী রোজিনা বেগম (২২) কে আটক করেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। রোজিনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


