মাগুরানিউজ.কম:
রাজীব মিত্র জয় –
মরিচের আরেক নাম লঙ্কা। এই লঙ্কা নিয়ে মাগুরাতে এখন লঙ্কাকাণ্ড চলছে। এই লঙ্কা বা মরিচ আকস্মিকই হিট-নায়িকাদের মতো আলোচিত হয়ে উঠেছে। কারণ এর দাম। দশ-বিশ টাকা কেজির মরিচ এখন ডাবল সেঞ্চুরি পার হয়ে এখন ট্রিপল সেঞ্চুরির পথে। কোথায় গিয়ে যে থামবে-সেটা ঠাহর করা যাচ্ছে না।
বলা হচ্ছে, কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টি আর বন্যার কারণে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আসা বন্ধ হয়েছে। ফলে দামের এই ঊর্ধ্বগতি। হবেও হয়তো। যদিও আমাদের দেশে রাজনৈতিক হানাহানি আর জিনিসপত্রের দাম বাড়ার জন্য কোন কারণ লাগে না।
আমাদের দেশে জীবনের দাম বাড়ে না, সৃজনশীলতা বা স্বপ্নের দাম বাড়ে না, এমনকি মানুষের দামও বাড়ে না, বাড়ে শুধু বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। এই দাম শুধুই বাড়ে। কারণে বাড়ে, অকারণে বাড়ে। বাড়তেই থাকে। ঝড়, বৃষ্টি হলে বাড়ে, না হলেও বাড়ে। রমজানের আগে বাড়ে, পরেও বাড়ে। তবে দাম একবার বাড়লে তা আর কমে না। আরো বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, দেশে বাম্পার ফলন হলেও খাদ্যশস্যের দাম কমে না।
তবে যতো যাই বলি না কেন, মরিচ জিনিসটা কিন্তু বড়ই খাসা! রান্নায় দিলেই স্বাদের আগুন। স্বাস্থ্য বাঁচায়, শরীর ব্যথাও কমায়। ঝাল বলে ভয়? তা কয়জন করে?
বলে রাখা ভালো, খুব ঝাল মরিচও সকলের ঝাল লাগে না। যেমন পাখির। ওরা তাই দিব্যি মরিচ খেয়ে ফেলে, সেই মরিচের বীজ ওদের মলের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে অন্যত্র।
অনেক মানুষ আছেন, পাখির কাছাকাছি, আপনি যখন নাকের জলে চোখের জলে অস্থির, তখন তিনি আপনার পাশে বসে দিব্যি তারিয়ে তারিয়ে ওই একই পদটি খাচ্ছেন আর বলছেন, ‘কই, তেমন ঝাল হয়নি তো !’ আবার, সব মরিচ নয় সমান।
যাঁরা ঝাল খান না, তাঁরা বলেন, মরিচ খেলে শরীর খারাপ হয়। মরিচ খুব বেশি খাওয়া নিশ্চয়ই ঠিক নয়, বিশেষ করে শুকনো মরিচ, তবে সে তো কোনও জিনিসই বেশি খাওয়া ভাল না। কিন্তু, নানা রকম মশলার মতোই, মরিচ কেবল স্বাদ বাড়ায় না, পুষ্টিও দেয়।
বিজ্ঞানের সীমানা পার হলেই বিশ্বাসের দুনিয়া। দক্ষিণ ভারতের মানুষ ভাবেন, বেশি ঝাল খেলে বুদ্ধি বাড়ে। বাঙালির যেমন মাছের মুড়ো খেলে বাড়ে।


