মাগুরানিউজ.কমঃ
সারা বিশ্বের এখন ভয়ংকার পেশার নাম শিশু শ্রম। প্রতিদিনই জীবন ধারণ আর দু’বেলা আর দু’মুঠো অন্নের জন্য তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতেই দ্বিধাবোধ করছে না। মূলত তাদের নিজেদের খাওয়া আর পরিবারের খাওয়ার জন্য শিশুরা লেখাপড়ার পরিবর্তে পেশার কঠিন আবর্তে জন্মের পরেই চলে যাচ্ছে। যে বয়সে তাদের খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাবার কথা ছিলো, ঠিক সেই বয়সে শুধুমাত্র দারিদ্র্যের কারণে আজ ওরা শিশু শ্রমিক।
দুমুঠো ভাতের জন্য ও সংসারের হাল ধরতে গ্রামের বিভিন্ন হোটেল ও চায়ের দোকানে কাজ করে শিশুরা। সারা দেশের মতো মাগুরাতেও শিশুরা নির্মাণকাজের মাটি কাটা, ইট-পাথর ভাঙা, ওয়েলডিং ও ওয়ার্কশপসহ ভ্যান চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে।
এদের অনেকে আবার কাজ না পেয়ে ভাঙারি, প্লাস্টিক কুড়ানোসহ বুট-বাদাম ফেরি করে থাকে। এদের বেশিরভাগই ৯ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশু।
দরিদ্রতার দরুন সংসারের চাহিদা মেটাতে না পেরে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের কাজে পাঠাচ্ছে, ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ফয়সাল উদ্দিনের ছেলে শরিফুল (১১) ইটভাটায় ৬০ টাকা বেতনে ৩ বছর ধরে শ্রমিকের কাজ করছে। শরিফুল জানায়, ৬ সদস্যের পরিবারে সংসারের হাল ধরতে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়।
মাগুরা সদরের রামনগর গ্রামের ভ্যানচালক মাজেদ মিয়ার ছেলে সেলিম (১২) চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেই অল্প বয়সেই ভ্যান চালিয়ে অর্থ উপার্জন করছে। তার প্রশ্ন কাম না করলি খাতি দিবি কিডা ?
স্থানীয় অনেক শিশু বিদ্যালয় শেষে বিকেলে বুট-বাদাম ফেরি করে। ফলে দিন দিন যেমন বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা, তেমনি বাড়ছে ঝরে পড়ার হারও।


