মাগুরানিউজ.কমঃ
বাসের জানলায় কনুই। ওই হাতেই ফোন ধরা ছিল কানে। কিছুক্ষণের অসতর্কতা। এক ধাক্কায় কনুই থেকেই ছিটকে বেরিয়ে গেল হাত!
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী- ভিড় রাস্তায়, বাসের রেষারেষিতে জানলায় ঝোলানো হাত খোওয়া যাওয়া আগে দেখেছে কলকাতা। এ বার সাক্ষী হল বর্ধমানও। বৃহস্পতিবার বর্ধমান-আরামবাগ রুটের বাসে বর্ধমানের বিবেকানন্দ কলেজে যাচ্ছিলেন বিএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শ্রাবণী নায়েক। বাসের জানলা দিয়ে বাইরে ডান হাতের কনুই বের করে ফোনে গল্পও করছিলেন। বর্ধমান শহরের সেহারাবাজারের কাছে উল্টো দিক আসা ট্রাকের ধাক্কায় কনুইয়ের নীচ থেকে কেটে যায় তাঁর হাত। আর্তনাদ শুনে পিছনে বসা এক যুবক মেয়েটির মাথা ধরে বাসের ভিতরে ঠেলে দেন। বাঁচলেও ডান হাত বাদ যায় মেয়েটির।
বছর কুড়ির শ্রাবণী প্রতিদিনই মাধবডিহি থানার একলক্ষ্মী-নরোত্তমপুরের বাড়ি থেকে বাসে কলেজে যান। বাসের অন্য যাত্রীরা জানান, ছাত্রীটির কাটা হাত ট্রাকের সঙ্গে আটকে কিছুটা দূরে গিয়ে পড়ে। বাস থামিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই কিছু যুবক ও কয়েক জন শ্রাবণীকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কাটা হাতটিও নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই কলকাতার এসএসকেএমে রেফার করা হয় তাঁকে।
শ্রাবণীকে বাসের ভিতরে ঠেলে দিয়েছিলেন যিনি, সেই ইমানুল ইসলামও জরুরি বিভাগে ভর্তি। কোনও রকমে বললেন, ‘‘আমার আগের সিটে বসে মোবাইলে কথা বলছিলেন ওই তরুণী। হাতের কিছুটা বাসের বাইরে ছিল। হঠাৎ চিৎকারে কিছু বোঝার আগেই দেখি ওর ডান হাতের একাংশ শরীর থেকে ছিঁড়ে ট্রাকে আটকে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বাসের জানলার বাইরে থাকা মাথাটা ঠেলে ভিতরে ঢুকিয়ে দিই। আমারও হাত ভেঙেছে তাতে।’’
২০১০-এ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে ট্রাকের ধাক্কায় ডান হাত কাটা পড়ে বাসের যাত্রী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের। ২০০৯ সালের অগস্টে ডাফরিন রো়ডে দু’টি বাসের রেষারেষিতে এক মহিলা-সহ তিন বাস-যাত্রীর ডান হাত কাটা পড়েছিল। এ দিনের ঘটনার পরে বিপদ বুঝেছেন শ্রাবণীর সহপাঠীরাও। সৌরদীপ ঘোষ, পম্পা খাতুন, মৈনাক ঘোষেরা তাই বলেন, ‘‘আমরাও এ রকম ভুল আকছার করি। এ বার সচেতন হতে হবে।’’


