মাগুরানিউজ.কমঃ
ই-পেমেন্ট বা অনলাইনের মাধ্যমে জমির খাজনা আদায়, নামজারী, জমির পর্চা ইত্যাদি সেবাসহ সকল প্রকার মামলার কোর্ট ফি জমা দেয়ার বিধান রেখে কোর্ট ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট- ২০১৬ বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। জনগণ যাতে সহজে, কম খরচে, দ্রুত ও হয়রানি ছাড়া কোর্ট ফি জমা দিতে পারেন সেজন্য ১৪৬ বছর পর আইনটি সংশোধিত হলো।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সংসদের দশম অধিবেশনে ১৮৭০ সালের আইনের এ সংশোধিত বিলটি পাস হয়। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সুপারিশ আকারে বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এরআগে বিলের ওপর আনীত সংশোধনী, জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। সংসদের নবম অধিবেশনে গত ৩ ফেব্রয়ারি বিলটি উপস্থাপিত হয়েছিল।
বিলের ২ ধারায় ১৮৭০ সালের ২৫ অনুচ্ছেদে সংশোধনী এনে বলা হয়েছে, কোর্ট ফি আদায়ের জন্য সরকার তফসিলী ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস প্রোভাইডার অথবা সরকার নিয়োজিত এজেন্ট নিয়োগ করতে পারবে। এ আইনের অধীনে সরাসরি রশিদের মাধ্যমে, স্ট্যাম্প গ্রহণের মাধ্যমে অথবা ই-পেমেন্টের রশিদ গ্রহণের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। স্ট্যাম্পের সংকট দেখা দিলে অনলাইনে জটিলতার কারণে নগদে টাকা জমা দেয়া যাবে। এছাড়া আগের আইনের ৩৪ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সরকার অনুমোদিত কোনো এজেন্ট ছাড়া অপর কেউ স্ট্যাম্প বিক্রি করলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান বিলে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্যে ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়, সহজলভ্য না হওয়ায় কোর্ট ফি প্রদানের সময় সাধারণ জনগণকে অনেক ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হয়। জনগণের হয়রানি রোধকল্পে, সহজেই এবং দ্রুততার সঙ্গে সরকারি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার স্বার্থে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে/অনলাইনে কোর্ট ফি জমার সুযোগ সৃষ্টি করতে বিদ্যমান দ্যা কোর্ট ফিস অ্যাক্ট ১৮৭০-এর সংশোধনী আনা অত্যন্ত প্রয়োজন। এ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা গেলে কোর্ট ফি ছাপানো, সংরক্ষণ ও পরিবহনের বিশাল ব্যয় হ্রাসসহ জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে।


