মাগুরানিউজ.কমঃ
আমরা মাগুরাবাসি, এতেই গর্ব অনুভব করি। গর্ব করার জন্য মাগুরা নামটাই যথেষ্ট, প্রয়োজন নেই কোনও গৌরচন্দ্রিকার। তাই কোনও সূচনা নয়, একেবারে ‘টু দ্য পয়েন্ট’, ‘মাগুরানিউজ’ জানাচ্ছে ( এই বিষয় নিয়ে প্রকাশিত ও স্বীকৃত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মাগুরা নিউজের তথ্য গবেষনা সেলের তৈরী এই প্রতিবেদন) এমন কিছু তথ্য আপনি প্রবাসেই থাকুন, মাগুরাতে থাকুন বা দেশের যেখানেই থাকুন আরো বেশি জানুন জানা-অজানা আপনার প্রিয় মাগুরাকে। শেয়ার করে সবাইকে জানতে সহযোগিতা করুন।
৩৮তম পর্ব-
মাগুরার লিচুপল্লী খ্যাত হাজরাপুর, বাঘবদাইড় ও হাজীপুর ইউনিয়নের মোট ৩০ গ্রাম লিচুপল্লী হিসাবে খ্যাত। এই ৩০ গ্রামে প্রতি বছর ৮ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন হয়। যার মধ্যে রয়েছে মুম্বাই, মোজাফফর, হাজরাপুর এবং চাইনা-৩ জাতের লিচু উল্লেখযোগ্য। মাগুরা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই লিচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যে কারণে প্রতি মৌসুমে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকাতে এই এলাকার লিচু রফতানি হয়ে থাকে। লিচু এই এলাকার কৃষকদের জীবনধারণ ও সাংসারিক ব্যায় নির্বাহের প্রধান অবলম্বন।
টসটসে রসালো, মিষ্টি স্বাদ, সুন্দর গন্ধ আর গাঢ় লাল রঙের বৈশিষ্ট্যের কারণে মাগুরার লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে। লিচুর মৌসুমে উৎসবে মেতে ওঠে পুরো এলাকা। প্রতিটি বাড়ির বসত ভিটায়, আঙিনায় ও বাগানের গাছে গাছে লাল লিচুতে রঙিন হয়ে গেছে পুরো এলাকা। মৌসুমী লিচুকে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই বসছে লিচুর হাট। এই হাট থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যাপারীরা লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসছে শত শত পাইকার ও খুচরা ক্রেতা।
লিচু বাগানের মালিকরা বলেন, দিনে বিভিন্ন পাখি ও কিশোর-কিশোরীদের অত্যাচার এবং রাতে বাদুরের উপদ্রব থেকে লিচু রক্ষা করতে দিনরাত তাদের বাগান পাহারা দিতে হচ্ছে। এ গ্রামের লিচু সুস্বাদু ও আগাম জাতের হওয়ায় চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিটি লিচুই গোলাপী রঙের, শাঁস মোটা ও রসালো। লিচু ক্রেতা মান্নান মিয়া জানান, এ বছর ১০০ লিচুর দাম ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। এখানকার লিচু বিখ্যাত হওয়ায় এই বাজারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগমন ঘটছে শত শত পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের।
এলাকার অনেক চাষীদের আয়ের প্রধান উৎস এখন লিচু চাষ। শুধুমাত্র লিচু বিক্রি করেই চাষীরা তাদের সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে সক্ষম হয়েছেন। লিচু বিক্রির টাকা দিয়েই অনেক পরিবার সারা বছরের ব্যয় নির্বাহ করে থাকেন। দিন দিন সম্ভাববনাময় এই সুস্বাদু লিচুর চাহিদা বাড়ায় আরও অনেকেই নতুন করে বাগান করতে শুরু করেছেন। এখানকার লিচু বৈশিষ্টের কারণে অন্য এলাকার লিচুর চেয়ে আলাদা।


