মাগুরানিউজ.কমঃ
খেজুর রসের জন্য বিখ্যাত মাগুরার শালিখা উপজেলা। অন্যান্য উপজেলায়ও কমবেশি উৎপাদিত হচ্ছে খেজুর গুড়। তাই শীতের শুরুতেই খেজুরগাছ কাটার ধুম পড়েছে মাগুরাতে। ঢাকার সন্নিকটে হওয়ায় এখানের খেজুরের রস ও গুড়-ই রাজধানীর মানুষ সবার আগে পায়। আর রাজধানীতেও রয়েছে মাগুরার খেজুর গুড়ের বিশেষ কদর।
মাগুরার গাছিরা খেজুর রস জ্বাল দিয়ে ঝোলা, দানা ও পাটালি তিন প্রকারের গুড়-ই তৈরি করে। খেজুরের গুড় থেকে একসময় বাদামি চিনিও তৈরি করা হতো। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ ছিল একেবারেই ভিন্ন। স্বাদের তৃপ্তিতে বাদামি চিনির জুড়ি নেই। এখন অবশ্যই সে চিনির কথা রূপকথার-ই গল্প।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরায় একসময় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। আর এসব খেজুরগাছের এক-তৃতীয়াংশই ছিল শালিখায়। তবে, ইটভাটার জ্বালানিতে খেজুরগাছ ব্যবহৃত হওয়ায় এর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
শালিখা উপজেলার স্কুল শিক্ষক মহিম উদ্দিন জানান, পুরো মৌসুমজুড়ে চলবে রস, গুড়, পিঠা-পুলি আর ক্ষীর-পায়েস খাওয়া। বাজারে উঠেছে নতুন খেজুর গুড়। খেজুরের রস দিয়ে তৈরি এই গুড় অনেক মজার।
তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে খেজুরগাছের রস খাওয়া ও গুড় বিক্রির ধুম। রাজধানী থেকেও অনেকে ছুটে আসছেন রস খাওয়ার জন্য। আবার রাজধানীতেও যাচ্ছে এখানের গুড় ও রস। জেলার প্রায় ৫ হাজার মানুষ রস সংগ্রহ ও এর সঙ্গে জড়িত। তবে, দিন দিন গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে খেজুরগাছ না লাগালে একসময় খেজুর রসের অস্তিত্ব হয়তো বা খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

