মাগুরানিউজ.কমঃ
শরীরে কচুরিপানা জড়িয়ে পানি থেকে আকাশ পানে উঠে যাওয়া কংক্রিটের স্তম্ভে লেখা ‘মাগুরা বিল’। বাইক্কা বিলের সীমানা শুরু এখান থেকে। কার্যত এমন তিনটি বিলের সমন্বয়েই এই বাইক্কা বিল। এখানে কিছু দূর পরপর লম্বা লম্বা খুঁটি গাঁড়া। সব খুঁটি মিলে ১০০ হেক্টর জায়গা জুড়ে বৃত্তাকার যে জলসীমা, সেটাই বাইক্কা বিল। আর শ্রীমঙ্গলের এই বিলই গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশি মাছের অভয়াশ্রম।
এই বিলকে ২০০৩ সালে দেশি মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিরকালের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই বিলে। পানির নিচে গাছের ডাল-গুঁড়ি, কংক্রিটের স্ল্যাব ফেলে তৈরি করা হয়েছে মাছ ধরার প্রতিবন্ধকতা। বিলের চতুর্পাশের গ্রামগুলোতে সার্বক্ষণিক পাহারা বসানো হয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের।
শুকনো মৌসুমে আপন অবয়ব নিয়ে ফুটে ওঠে বাইক্কা বিল। বর্ষাকালের ৮/১০ ফুট পানি কমে টিকে থাকে ৩ কি ৪ ফুট। রোদের তাপে গরম হওয়া পানিতে হাঁপিয়ে ওঠা মাছগুলোর তখন আশ্রয় হয় পানির নিচে কাটা কূপে। অন্তত ১শ’ ফুট আয়তনের বেশ কিছু কূপ এখানে কাটা হয়েছে দেশি মাছগুলোর অবাধ বিচরণের জন্য।
এখন তাই নির্বিঘ্নে আইড়, কই, মেনি, ফলি, পাবদা, কানি পাবদা, ঘনিয়া, কালবাউস, রিটা, বোয়াল, চিতল, শোল, রানী, টাকি, সরপুঁটি, মলা, নামা, চান্দা, কই, তারাবাইন ইত্যাদি দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে এই বিলে। বড় হয়ে পুরো হাওরে ছড়িয়ে পড়ছে বাইক্কা বিলের এসব দেশি মাছ।


