মাগুরানিউজ.কম:
কৈ, শিং, টাকি, শোল, সরপুটি, নলা, টাটকিনি, মাগুরের জন্য বরাদ্দ ঠ্যালা জাল। তিনটি বাঁশের লাঠিকে ত্রিভুজাকৃতির শেপ দিয়ে তিন কোণায় বাঁধা হতো জালের তিন মাথা। ত্রিভুজের লম্বা মাথা ধরে সেটাকে পানির নিচ দিয়ে কচুরিপানা বা শ্যাওলার তল দিয়ে চালান করে দিতে হতো। মাছের ঝাঁক যদি ওর মধ্যে পড়ে যায় তাহলে আর রক্ষে নেই, জালের কুশে এসে সেগুলো জমা হয়ে যেতো।
কচুরিপানার অভয়ারণ্যনে ঠ্যালা জালের চেয়ে উস্তাদ আর কিছু নেই। কেননা কচুরি বা শ্যাওলার যে বড় বড় দাড়ি (শেকড় আর কি) হয়, সেগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে মাছেরা। বিশেষ করে কৈ, শিং, টাকি, শোল, মাগুর, বাইম, বুতকিয়া মাছগুলো কচুরিপানার দাড়িতে লুকিয়ে থাকতে দারুণ আমোদ বোধ করে।
মাছুয়াদের কাজ হচ্ছে, ঠ্যালা জালটা ঠেলে কচুরিপানার নিচে ঢুকিয়ে দেয়া। ঢুকিয়ে দেয়ার পর ত্রিভুজের অপর দুই মাথা দুই পাশ থেকে সঙ্গে থাকা বাকি দুজনকে কচুরি সমেত টেনে তুলতে হবে। টেনে পানির উপরে তুলে কচুরিপানা সতর্কতার সঙ্গে পরখ করতে হবে। কচুরিপানার হাতখানেক লম্বা লম্বা কালো দাড়ির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মাছেরা। একটু ঝাঁকি দিলেই সড়সড় আওয়াজ তুলে জালে গড়িয়ে পড়ে।


