মাগুরানিউজ.কম: “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাজেদুল মাছ ধরার জন্য জাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে বুধবার বিকালে ভাইয়ের খবর পেলাম। গলা কেটে হত্যা করে তার লাশ বাঁশ বাগানে পুঁতে রাখে দুর্বৃত্তরা। আমরা হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।” এ বক্তব্য মহম্মদপুর উপজেলার শিরগ্রামের আলোচিত হত্যাকান্ডের শিকার নিহত মাজেদুলের ভাই সাজেদুলের।
গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার দীঘা ইউপির শিরগ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি বাঁশ বাগানে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় যে লাশটি উদ্ধার করা হয় তা মাজেদুলের। নিহত মাজেদুল শিরগ্রামের খবির শেখের ছেলে।
নিহতের ভাই সাজেদুল আরো বলেন, তার ভাই মাজেদুল পেশায় কৃষি শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মাছ ধরার কথা বলে জাল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি সে। পরে লোক মারফত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন তিনি।
কয়েক মাস আগে কয়েকজন প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ভাইকে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
মহম্মদপুর থানার ওসি (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন জানান, শিরগ্রামের বাসিন্দা তৌহিদ খাঁন বুধবার দুপুরে বাড়ির পাশে বাঁশ কাটতে গিয়ে গর্তের ভেতর মানুষের হাত দেখে লোকজনকে খবর দেন। পরে এলাকাবাসীর কাছে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। লাশের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পায়ের রগ ও গলা কাটা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই গ্রামের দাউদ খাঁনের ছেলে মামুন খাঁনকে (২৫) আটক করেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন, রক্তমাখা লাঠি, গেঞ্জি ও ছোরার বাট আলামত হিসেবে জব্দ করেছে বলে জানান ওসি।
তিনি আরো জানান, দুর্বৃত্তরা সুপরিকল্পিতভাবে মাজেদুলকে গলা কেটে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রেখে গেছে। এ ঘটনায় মহম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

