ইতালির বন্দিশিবিরে মাগুরার মহম্মদপুরের রুবেল শেখ। ট্রলারডুবিতে ১১৮ জনের মৃত্যু

 

 

মাগুরানিউজ.কম:

mn

গত ২৭ আগস্ট লিবিয়ার জোয়ারা উপকূলে দুটি ট্রলারডুবিতে ২৪ জন বাংলাদেশিসহ ১১৮ জনের মৃত্যু হয়, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক ও সিরিয়ার নাগরিকদের পাশাপাশি মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে লিবিয়ায় থাকা কিছুসংখ্যক বাংলাদেশির ইতালির পথে পাড়ি দেওয়ার ঘটনা আলোচনায় আসে।

তালির উপকূলে ট্রলার থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া মাগুরার মহম্মদপুরের মোহাম্মদ রুবেল শেখসহ ১৯ জন বাংলাদেশি এখন সেখানে একটি বন্দিশিবিরে আছেন বলে গনমাধ্যম সুত্রে জানা গেছে। আর মৃত বাংলাদেশিদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন ও মো. সেলিম নামের দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এই দুজনের লাশ ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁদের পরিবার ঢাকায় রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে।

বাংলাদেশে রেড ক্রিসেন্টের পরিচালক মনোয়ারা সারোয়ার গতকাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সংস্থার ইতালিসহ আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ওই ট্রলার থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া মোহাম্মদ রুবেল শেখের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুরে। তিনি বেনগাজির একটি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমকে তিনি গতকাল তাঁদের ট্রলারযাত্রার বর্ণনা দেন।

ইতালির বন্দিশিবির থেকে তিনি বলেন, ইতালিতে যাওয়ার জন্য বেনগাজি থেকে সেলিম, শাহাদাতসহ তাঁদের বাসে করে ত্রিপোলি আনা হয়। সেখান থেকে জোয়ারা। সাধারণত এক হাজার লিবীয় দিনার দিলেই দালালেরা ট্রলারে তোলে। কিন্তু তাঁরা বাবু নামে বাংলাদেশি দালালকে ১ হাজার ৩০০ দিনার দেন, যাতে ট্রলারের পাটাতনে না রেখে তাঁদের ওপরে রাখা হয়। কারণ পাটাতনের নিচে ইঞ্জিনের কাছে রাখলে বেশির ভাগই মারা যায়।

রুবেল শেখ বলেন, ‘২৫ আগস্ট রাতে আমাদের যখন ছোট নৌকা থেকে বড় নৌকায় (ট্রলার) তুলে পাটাতনের নিচে ঢুকতে বলা হলো, আমরা আপত্তি করলাম। কিন্তু দালালেরা আমাদের পিস্তলের ভয় দেখালে আমরা বাধ্য হয়ে সেখানে ঢুকি। সেখানে প্রায় ২০০ লোক ছিল। নৌকা ছাড়ার পর কান্নাকাটি শুরু হয়। আমরা ধরেই নিয়েছিলাম মারা যাব। সবাই সবার কাছ থেকে মাফ চাই। শাহাদাত ও সেলিম দম বন্ধ হয়ে আমার গায়ের ওপরই মারা যায়। আরও কতজন যে মরল হিসাব নেই। ৩৮ ঘণ্টা নৌকা চলেছে। শেষের দিকে পাটাতনে পানি চলে আসে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কোস্টগার্ড এসে আমাদের উদ্ধার করে। নইলে আমরাও মরে যেতাম।’

নৌকায় কতজন বাংলাদেশি ছিল জানতে চাইলে রুবেল বলেন, ‘৩৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাতে ৬০ থেকে ৭০ জন বাংলাদেশি ছিল। অর্ধশত লোক মারা গেছে। তাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন বাংলাদেশি থাকতে পারে।’ কীভাবে নিশ্চিত হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শাহাদাত, সেলিম ও আমি একসঙ্গেই ট্রলারে উঠেছিলাম। আমার চোখের সামনেই দম বন্ধ হয়ে আমার দুই বন্ধু মারা গেছে। নামার সময় আমি আরও অনেকের লাশ দেখেছি।’

বন্দিশিবিরে থাকা মাদারীপুরের আলী মাতুব্বর ও মোহাম্মদ নজরুলও একই কথা বলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
%d bloggers like this: