মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক-
মাগুরার শ্রীপুরে থাকেন লতিফা বেগম। স্বামী পরিত্যক্তা হয়েছেন এক মেয়েকে নিয়েই। স্থানীয় একটি এনজিওর স্কুলে বাচ্চাদের পড়িয়ে কোনো রকমে দিন কেটে যায়। সামান্য বেতনের টাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। এর মধ্যেই রোজার ঈদ। অন্যদের কাছে ঈদ মানে আনন্দ ও খুশি হলেও লতিফার জন্য তা আতংক ও উৎকণ্ঠার। কেননা ১০ বছরের মেয়ের জন্য ঈদে যে নতুন পোশাক কিনতে হবে। কিন্তু টাকা কোথায়? অবশেষে কিছু টাকা ধার করে কম দামে পছন্দসই একটি জামা কিনতে এসেছেন মাগুরা শহরের আতর আলী সড়কে পোষ্টঅফিস সংলগ্ন মার্কেটে।
এ সময় কথা হলে তিনি জানান, ভেবেছিলাম থ্রি-পিসের কাপড় কিনব। কিন্তু মেয়ের পছন্দ হচ্ছে না। তাছাড়া দর্জি এখন আর কাপড় অর্ডার নিতে চায় না। সব মিলিয়ে ১২শ’ টাকা দিয়ে একটি রেডিমেড জামা কিনে দিলাম। নিজের জন্য কিছু না নিলেও মেয়ের মুখে হাসি ফোটানো চেষ্টা করি সব সময়।
কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী সবুজের সঙ্গে। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এসেছেন কেটাকাটা করতে। তিনি জানান, এখানে কম দামে পছন্দ মতো জিনিস কেনা যায় বলেই মহম্মদপুর থেকে এসেছি। তার স্ত্রী নাজমার অভিযোগ আগের মতো অবস্থা বর্তমানে নেই। এখানেও এখন বেশি দাম নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদারকি করা দরকার।
নূরজাহান মার্কেটে কথা হয় মাগুরা মহিলা কলেজের ছাত্রী জেসমিন আখতারের সঙ্গে। তিনি বলেন, দাদা, মা-বাবা এবং ছোট ভাই-বোনের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। সবার জন্যই কেনা শেষ। এখানে সব সময়ই কেনাকাটা করি।
আতর আলী সড়কে বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রথম দিকে তারা কিছুটা হতাশ থাকলেও এখন বেচাকেনা ভালই হচ্ছে।

