মাগুরানিউজ.কমঃ
বিশেষ প্রতিবেদক-
বৃষ্টিকান্ডে চরম ঝুকিতে রয়েছে মাগুরার কৃষি। ক্রমাগত অতিবর্ষন ও শিলাবৃষ্টিতে জেলার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার রাতের বৃষ্টিতে প্রায় ১২শ হেক্টর জমির পাকা ধান ও পাট তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারনে বোরো ধান কাটা ও শুকানো নিয়ে কৃষক চরম সংকটময় দিন কাটাচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির পরিমান নিরূপনের কাজ চলছে জানিয়েছে জেলা কৃষিবিভাগ।
কৃষিবিভাগ সুত্রে জানা গেছে, মাগুরায় চলতি মৌসুমে ৪৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৬৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চাইতে ১২ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। প্রায় ১২শ হেক্টর জমির পাকা ধান ও পাট তলিয়ে গেছে। এরমধ্যে ৭শ হেক্টর জমির পাকা ইরি, বোরো এবং ৫শ হেক্টর জমির পাটক্ষেত তলিয়ে গেছে। কৃষক মাঠে ধান কেটে রাখার পর বৃষ্টিতে ডুবে গেছে। ফলে বিচালী নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া সবজি ক্ষেতেররও ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে মাগুরা সদর উপজেলার ৫ গ্রামে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবারের শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে সদর উপজেলার আবালপুর, কাশিনাথপুর, ইছাখাদা, ছোটফালিয়া, ডেফুলিয়া ও দেড়ুয়া এলাকায় বেশিরভাগ জমির ধান ও পাট একবারে বিনষ্ট হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতের ধান শিলাবৃষ্টির আঘাতে ঝরে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধান ওঠার মুহূর্তে ধানের এই ক্ষতিতে তারা দিশেহারা। এছাড়া শিলার আঘাতে পাটের অগ্রভাগ একেবার ভেঙ্গে গেছে। এধরণের শিলাবৃষ্টি তারা অতীতে দেখেননি।
মাগুরা হাটে কৃষি শ্রমিক নিতে আসা শ্রীপুরের ইফসুফ মিয়া, আতর আলী, হবিবর, আকামত জানান, বৃষ্টিতে তাদের মাঠের পাকা ধান ও পাটক্ষেত তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। বিরূপ অাবহাওয়ার কারনে কৃষি শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। একজন শ্রমিককে দিনপ্রতি সর্বনিম্ম ৮শ টাকা করে মজুরি দিতে হচ্ছে। সেই সাথে রয়েছে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা।
তারা আরও জানান, পানির মধ্যে ডুবে থাকা ধান কাটতে হচ্ছে। ফলে নষ্ট তো হচ্ছেই, পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যায় করতে হচ্ছে।
মাগুরা সদর উপজেরা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্যে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে। বৃষ্টিতে প্রায় ১২শ হেক্টর জমির পাকা ধান ও পাটক্ষেত তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৭শ হেক্টর জমির ধান ও ৫শত হেক্টর জমির পাটক্ষেত। আর্থিক ক্ষতির পরিমান নিরূপনে কাজ চলছে।
Like this:
Like Loading...