দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান আজ সোমবার তথ্য প্রযুক্তি ও মানহানির একটি মামলায় মাগুরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে হাইকোর্টের জামিননামা দাখিল করেছেন। তিনি দুপুর ১২টার দিকে আদালতে আসেন।
বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকীকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ মাগুরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ এবং দণ্ডবিধি ৫০০ ও ৫০১ ধারায় একটি মামলা দায়ের হয়।
মাগুরা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফ হোসেন লিটন ১০০ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ মামুন ২৯ জানুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে মাগুরা সদর থানার ওসির প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এ মামলায় মাহমুমুদুর রহমান গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তবর্তীকালিন জামিন নিয়েছেন ও আজ সোমবার হাইকোর্টের নির্দেশে মাগুরা আদালতে জামিননামা দাখিল করেন বলে তার মাগুরার আইনজীবী শাহেদ হাসান টগর জানান।
জামিনে মুক্ত হয়ে মাহমুদুর রহমান জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আদালত থেকে বের হন।
এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার আমার বিরুদ্ধে ১৯৭টি মামলা দিয়েছে। এর মধ্যে দুই মাস আগে নতুন করে ৩৬টি মামলা দিয়েছে। এই অত্যাচার দেশের সাধারণ মানুষের উপর চলছে। বর্তমান শাসক দল সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করে রেখেছেন। এর হাত থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হলে সবাইকে দলমত নির্বিশেষে সংগ্রাম করতে হবে।
এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আলী করিম, জিয়া পরিষদ চেয়ারম্যান কবির মুরাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক ও আসামী পক্ষের আইনজীবী শাহেদ হাসান টগরসহ জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ১২ ডিসেম্বর মাগুরা জেলা জজ আদালতে দায়েরকৃত মামলায় বাদী আশরাফ হোসেন লিটন অভিযোগ করেছেন, জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক কাউন্সিল (বিডিসি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে কটুক্তি করেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
মামলার বাদী ইউটিউবে সেই বক্তব্য দেখে ও শুনে মর্মাহত হন। পাশাপাশি ওই বক্তব্যে বর্তমান সরকার ও দেশের অপূরণীয় ক্ষতিসহ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের এক হাজার কোটি ডলার পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে বলে বাদী এ মামলায় দাবি করেন।


