মাগুরানিউজ.কমঃ
১৯৭১ সালের এই দিনে মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কামান্নায় পাকবাহিনীর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন মাগুরার ২৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা ওই ২৮ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে সে সময় কামান্না গ্রামে একাধিক গণকবরে সমাহিত করা হয়।
চৌকশ ও সাহসী ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শেষে ভারত থেকে কামান্নার মাধব চন্দ্রের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের এ উপস্থিতির সংবাদ স্থানীয় রাজাকারদের তৎপরতায় দ্রুত চলে যায় ঝিনাইদহ ও মাগুরার আর্মি ক্যাম্পে। হানাদারদরা ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে ভারী অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাতের অন্ধকারে পৌছে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের খুব কাছাকাছি। দুরে তাদের গাড়িগুলো রেখে পায়ে হেটে এগিয়ে এসে রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই হানাদাররা মুক্তিসেনাদের আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে মর্টারের ভারী গোলা ছোড়ে। আকস্মিক এ আত্রমণে পথক্লান্ত মুক্তিসেনারা হকচকিয়ে যায়। সামলে নিয়ে শক্ত হাতে তুলে নেয় হাতিয়ার। প্রতিআক্রমণ চালায়।
কিন্তু আক্রমণে মুক্তিসেনারা তাদের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। ঘরের মাঝে আটকা পড়ে যায় অনেকে। পাকসেনারা তাঁদেরকে গুলি ছুঁড়ে হত্যা হরে। তারা গ্রামটিকেও তছনছ করে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ফণিভূষণ কুণ্ড ও রঙ্গবিবিকে গুলি করে হত্যা করে। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অনেক গ্রামবাসীও আহত হয়। হানাদাররা স্থান ত্যাগ করার পর পরই আশে পাশের গ্রাম থেকে হাজার হাজার লোক এসে জড়ো হয়। ঘরের মেঝে, উঠানে, বাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল মুক্তিসেনাদের ক্ষত বিক্ষত নিষ্পাপ দেহ। রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল বাড়িটির সারা আঙিনা।
সবগুলো লাশ জড়ো করা হয় এক জায়গায়। কামান্না হাই স্কুলের খেলার মাঠের উত্তর পাশে কুমার নদ ঘেঁষে ৫টি গণকবরে এ বীর শহীদদের কবর দেয়ি হয় । কবর ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে একটি শহীদ মিনার, যার গায়ে লেখা রয়েছে শহীদদের নাম।
স্বাধীনের মাত্র ১৯ দিন আগে শহীদ হওয়া ২৭ শহীদের রক্তস্নাত পবিত্র স্থানটি সংরক্ষণ বা স্মরণে রাখার মত কিছুই নির্মিত হয়নি আজও। যে বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছিল সেটিও আজ ধ্বংসের পথে। তবে ২০০৮ সালে গণকবর গুলো ঘেষে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেছে গ্রামবাসী।


