মাগুরাবাসীর বেদনার ও গর্বের ২৬ নভেম্বর স্মরন

মাগুরানিউজ.কমঃpak20141103185506dfgvdf

২৬ নভেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কামান্নায় পাকবাহিনীর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন মাগুরার ২৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা ওই ২৮ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে সে সময় কামান্না গ্রামে একাধিক গণকবরে সমাহিত করা হয়।

কামান্না শহীদদের স্মরণে তাদের নিজ এলাকা মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। প্রতি বছরের ন্যায় আজ ২৬ নভেম্বর কামান্না শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে জেলার মুক্তিযোদ্ধারা কামান্না থেকে ২৮ শহীদের কবর নিজ এলাকা মাগুরা সদরের হাজীপুর গ্রামে স্থানান্তরের দাবী জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি তারা মানবেতর জীবন-যাপনকারী শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুণঃর্বাসনের দাবী জানিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশে নেওয়া হয়নি তেমন কোনো উদ্যোগ। ২৮ শহীদের নাম সম্বলিত একটি স্তম্ভ হাজিপুর গ্রামে ১৯৯৭ সালে তৈরি করা হলেও আজও এটির কোনো ফলক লাগানো হয়নি।

ফলে নতুন প্রজন্ম ওই যুদ্ধ সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানতে পারছে না। এ বিষয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। 

হাজিপুরের ২৮ শহীদের মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন ও সেখানে একটি স্মৃতি কমপ্লেক্স তৈরির দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্ম।

হাজিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আমিনুল হক খোকন জানান- হাজিপুর স্কুলে ঢোকার মুখেই একটি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভ করা হয়েছে। কিন্তু এ জায়গাটি  অরক্ষিত থাকায় গরু ছাগল স্মৃতি স্তম্ভটিকে অপবিত্র করে। তিনি এখানে একটি কমপ্লেক্স তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি অম্লান করে রাখার দাবি জানান।

২৮ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকের পরিবার এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। দিবসটি শুধু মিলাদ মাহফিল ও স্থানীয় আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মুহ. মাহবুবর রহমান বলেন- নিঃসন্দেহে কামান্নায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গর্ব। এসব মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি অম্লান করে রাখতে একটি কমপ্লেক্স তৈরি করতে আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব রাখবো। আমরা আশা করছি মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক সাড়া পাবো।

এই দিবসটি একদিকে জেলাবাসীর কাছে বেদনার অন্যদিকে গর্বের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: