মাগুরানিউজ.কমঃ
সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে একটি জাহাজ ডুবে সাড়ে তিন লাখ লিটারের বেশি তেল ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শ্বাসমূলীয় বনের গাছপালা, ডলফিন, মাছ ও বন্য প্রাণীর জন্য এক মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবনে ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনে বাংলাদেশ অংশে স্থল ভাগের পরিমান ৪ হাজার ১শ ৪৩ বর্গ কিলোমিটার। আর ৪শ ৫০টি ছোট-বড় নদী ও খাল নিয়ে জল ভাগের পরিমান ১ হাজার ৮শ ৭৪ বর্গ কিলোমিটার। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে সুন্দরবনের আয়তন ছিল বর্তমানের প্রায় দ্বিগুন। মানুষের কারনে সুন্দরবনের আয়তন আজ এখানে এসে ঠেকেছে।
সুন্দরবনে রয়েছে ৩শ ৩৪ প্রজাতির গাছপালা, এ উদ্ভিদকুলের ৭৩ ভাগই হচ্ছে সুন্দরী গাছ, ১৬ ভাগ গেওয়া। ১শ ৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড। রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রল হরিনসহ ৩২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরিসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, ৩শ প্রজাতির পাখি। বিলুপ্ত প্রায় ইরাবতী ডলফিনসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন, কুমির, ২শ ১০ প্রজাতির মাছ, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১ প্রজাতির লবস্টার ও ৪২ প্রজাতির শামুক, ঝিনুক রয়েছে সুন্দরবনে।
সুন্দরবনের সম্পদের হিসাব করা কঠিন। সুন্দরবনে দৃশ্যমান সম্পদের পরিমান ১শ ৫৮ কোটি ৯ হাজার ৮শ ৭ পয়েন্ট ৮০ বিলিয়ন টাকা। এসব কারনে পর্যাটদের কাছে সুন্দরবন হচ্ছে প্রকৃতির অপর বিশ্বয়। বিষেশজ্ঞদের প্রাথমিক হিসাব মতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই ও শরনখোলা রেঞ্জের নন্দপাড়া নদী থেকে শ্যালা নদী হয়ে আন্ধারমানিক নদী পর্যন্ত মাছসহ জলজ প্রানীসহ ডলফিনের অভ্যায় আশ্রম এখন চড়ম অস্তিত্ব সংকটে।
মঙ্গলবার এ অয়েল ট্যাংঙ্ককার ডুবির পর থেকে ডলফিনের এ অভ্যায় আশ্রমে আর ডলফিনের দেখা মিলছে না। এসব এলাকার ২শ” কিলোমিটার যায়গা জুড়ে গাছপালার শ্বাষমূলে তেলের আস্তরন পড়ায় ম্যানগ্রোভ বনের গাছপালা দু’সপ্তাহার মধ্যে মরতে শুরু করবে বলে বিষেশজ্ঞরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। এমন মানুস্বসৃষ্ট র্দূযোগের মুখোমুখি সুন্দরবন আর কখনো দাড়ায়নি।


