মাগুরানিউজ.কমঃ
আজ ১২ ডিসেম্বর। স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রনায়ক মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩৪তম জন্মবার্ষিকী।
জাতি ও জনগণের মুক্তির সংগ্রামের অন্যতম পথপ্রদর্শক মওলানা ভাসানী ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হাজী শরাফত আলী ও মায়ের নাম মজিরন বিবি। আওয়ামী মুসলিম লীগ ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মারা যান।
ভাসানী তার রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময় মাওপন্থি কম্যুনিস্ট তথা বামধারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার অনুসারীদের অনেকে এজন্য তাকে ‘লাল মওলানা’ নামেও ডাকতেন। দেশের মানুষের কাছে ‘মজলুম জননেতা’ হিসেবে সমধিক পরিচিত তিনি।
নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন সকলের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। দুরন্ত শৈশব এবং পিতার মৃত্যুর কারণে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া না হলেও স্বশিক্ষিত ভাসানী ১৯০৯ সালে টাঙ্গাইলের কাগমারীর এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সেই বছরেই তিনি ব্রিটিশবিরোধী গোপন সশস্ত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৩২ সালের ডিসেম্বরে তিনি সিরাজগঞ্জের কাওয়াখোলা ময়দানে তিন দিনব্যাপী ‘বঙ্গ আসাম প্রজা সম্মেলন’-এর আয়োজন করেন। তিনি আসামে চাষী মজুর সমিতি গঠন করে ঐতিহাসিক লাইনপ্রথা আন্দোলন সংগঠিত করেন। এ ছাড়া, আসামে বাঙাল খেদা আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৪৮ সালে পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচনে জয়লাভ করে কিছুদিনের মধ্যেই পদত্যাগ করেন। ১৯৪৯ সালের ২ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে মওলানা ভাসানী সভাপতি নির্বাচিত হন এবং শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক। পরে ১৯৫৫ সালে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি তুলে দেন। তার জীবনের অন্যতম কীর্তি ১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনের আয়োজন। সে বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি পশ্চিম পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানান। ওই বছরই তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করেন। ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ পল্টনের জনসভায় স্বাধীন পূর্ব বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দেন। তারই নেতৃত্বে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত, আলোচনা সভা ইত্যাদি।


