মাগুরানিউজ.কমঃ
কুয়াশার কারণে রোদের দেখা না মেলায় মাগুরাতে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে শীত। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গরম কাপড়ের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। কনকনে শীতের সাথে যোগ হওয়া ঘন কুয়াশা ঢেকে রাখছে দিনের অর্ধেক সময়।
বিভিন্ন ফসল নষ্টের উপক্রম হচ্ছে শীতের কারণে। দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কষ্ট হলেও শীত উপেক্ষা করে নিজ নিজ কর্মে যাচ্ছেন দিনমজুর আর শ্রমিকরা। রোদ না থাকায় মিল- চাতালে দিনের পর দিন পড়ে রয়েছে সিদ্ধ করা ধান।
শীতের তীব্রতায় কাঁপছে মাগুরার মানুষ। রাতে বৃষ্টির মতো শিশির ঝরছে। সূর্যের দেখা মিলছে না। গরিব মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মানুষজন ছুটছে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। বহু স্থানে ঘন কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনাও।
মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় গত তিন দিন ধরে ঠিকমতো সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে গরম কাপড়ের অভাবে ঠান্ডায় কাঁপছে উপজেলার দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষ। তারা আগুন জ্বালিয়ে ঠাণ্ডা নিবারণের চেষ্টা করছে। তিনটি উপজেলায় সরকারিভাবে এ পর্যন্ত কোন শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি।
জেঁকে বসা তীব্র শীতের কারণে লেপ-তোশকের দোকানের পাশাপাশি মার্কেটগুলোতে গরম কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ক্রেতারা। আর নিম্নমধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষেরা যাচ্ছেন ফুটপাতে পসরা সাজিয়ে বসা কম দামের শীতবস্ত্র বিক্রেতাদের কাছে। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার কাপড়ের দাম বেশি বলে জানালেন ক্রেতারা।
মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর পাড়ে জেলেপাড়া গ্রাম। সোমবার সকালে ওই গ্রামে সকাল গিয়ে দেখা যায়, দরিদ্র মানুষ অনেক স্থানে আগুন জ্বালিয়ে নিজেদের শীত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। গরম কাপড়ের অভাবে ওই গ্রামে অন্তত আড়াই হাজার মানুষ কষ্টে আছে। এ সময় রহিমা বেগম বলেন, ‘নদীর বাতাস খালি হড়হড় করে এসে ঘরে ঢোকে। গায়ে দেওয়ার একটা মোটা কাপড়ও নাই বাবা।’
একই গ্রামের সাবিনা বেগম (৩২) বলেন, ‘রাতে কয়দিন থেকে ঘরে বরপের মোতো ঠাণ্ডা পানি পড়ছে। ঠান্ডায় হাত-পা কোঁকড়া লাগে।’ উপজেলার গোপালনগর রুইজানি গ্রামের শাহনাজ বেগম (৬৫) কাঁপতে কাঁপতে বলেন, ‘মরণের ঠাণ্ডা শুরু হইছে। কয়দিন থেকে রইদো নাই। এমন কয়দিন থাকবে ?’
রায়পাশা গ্রামের মালেকা বেগমা (৫০) বলেন, ‘ গরিবের জন্য গরমে ভালো। পাতলা ছিঁড়া কাপড় গায়ে দিয়া থাকা যায়। ঠাণ্ডায় মোটা কাপড় নাই। ছাওয়াল-মেয়ে নিয়ে কষ্টো করে বেঁচে আছি। আমাদের মেম্বার-চেয়ারম্যানরা দেখে না।’ পোয়াইল গ্রামের মাজেদা বেগম (৫৫) বলেন, ‘হাত-পা টাটানি ঠাণ্ডা শুরু হইছে। সহ্য করা যাচ্ছে না। যতদিন যাচ্ছে, ঠাণ্ডাও বাড়ছে।’
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত সরকারিভাবে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ শুরু হয়নি। কম্বল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। শীতে অসহায় মানুষকে রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালীদেরও এগিয়ে আসা দরকার।




