মাগুরানিউজ.কমঃ
আইনে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে প্রয়োগ নেই। মাগুরার সর্বত্র উন্মুক্ত স্থানে প্রকাশ্যে চলছে ধূমপান। এমনকি আইনের রক্ষকদেরও প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখা যায়। ধূমপান বিরোধী আইনের বাস্তব প্রয়োগ না থাকায় বন্ধ করা যাচ্ছে না ধূমপান। এতে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন নারী শিশুসহ অধূমপায়ীরা।
‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ (এপ্রিল ২০১৩-এ সংশোধিত) অনুযায়ী উদ্যান, মাঠ, স্টেশনসহ জনসমক্ষে ধূমপান করলে ৩০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা হয়েছে, নারী-শিশুসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকেও রক্ষা করতে হবে।
এ প্রতিবেদক গত কয়েকদিন জেলা শহরের বিভিন্ন জনসমাগমের স্থানে ঘুরে অনেক লোককে নির্বিঘ্নে ধূমপান করতে দেখেন৷পারনান্দুয়ালি বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় বাসচালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তিনি চালকের আসনে বসে সিগারেট টানছিলেন জরিমানার কথা বললে তিনি বলেন, ‘সিগারেট খাই আমার টাকায়, জরিমানা আবার কিসের?’।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও জনসমক্ষে ও দায়িত্বরত অবস্থায় ধূমপান করতে দেখা যায়। সম্প্রতি এ প্রতিবেদক শহরের ভায়নার মোড়ে দায়িত্বরত অবস্থায় এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য ও একজন পুলিশ সদস্যকে ধূমপান করতে দেখেন।
সূত্র জানান, জনসমক্ষে ধূমপান নিষিদ্ধ করে জরিমানার বিধান করা হলেও এখনো এ বিষয়ে সচেতনতা খুব কম। সর্বত্রই লোকজনকে যেখানে-সেখানে ধূমপান করতে দেখা যায়। এমনকি আইন কার্যকরের দায়িত্ব যাদের ওপর, সেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরই কখনো কখনো দায়িত্বরত অবস্থায় জনসমক্ষে ধূমপান করতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, প্রকাশ্যে ধূমপান করলে আইন অনুযায়ী সিভিল সার্জন ও ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করতে পারবেন। এ ছাড়া পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্বরত অবস্থায় কোনো পুলিশ সদস্য ধূমপান করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর ১২ লাখের বেশি মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত প্রধান আটটি রোগে আক্রান্ত হয়। তামাকজাত পণ্য সেবনের কারণে বছরে এ দেশের স্বাস্থ্য খাতে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে৷
এ বিষয়ে মাগুরা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে কর্মরত ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ের গবেষক ও সিনিয়র প্রশিক্ষক ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী বলেন, ধূমপান প্রতিরোধ ও তামাক উৎপাদন বন্ধে শক্ত আইন ও তার বাস্তবায়ন জরুরি। সেই সঙ্গে তামাকজাত পণ্যের ওপর ৭০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা উচিত৷ এতে করে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করবে ও ধূমপায়ীরা ধূমপান ছেড়ে দেবেন।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরোক্ষ ধূমপানের কারণে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা বাড়ছে ও শিশুরা ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও ধূমপান বর্জনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

