মাগুরানিউজ.কমঃ

বাদাম বিক্রেতা, চা ওয়ালা, ফলবিক্রেতাসহ অতি সাধারণ মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার গল্প আপনারা শুনছেন। সোমবার নতুন আরেক গল্পের জন্ম হলো বিশ্বে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন এক সময়ের কাঠ বিক্রেতা জোকো উইদোদো। তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি প্রতিষ্ঠিত বা ক্ষমতাধর রাজনৈতিক, ব্যবসায়ী বা সামরিক বলয় থেকে নির্বাচিত হননি। সাধারণ এক আসবাব (কাঠ) বিক্রেতা থেকে ধীরে ধীরে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন। তার বাবাও একজন কাঠ বিক্রেতা ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার পার্লামেন্টে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হয়। এ সময় মার্কিন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও আঞ্চলিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ‘জোকোউই’ নামে পরিচিত এই নেতা বলেন, ‘মৎস্যজীবী, শ্রমজীবী, হকার, চালক, শিক্ষাবিদ, শ্রমিক, সৈনিক, পুলিশ, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের প্রতি আমার আহ্বান চলুন, আমরা সবাই একসঙ্গে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কঠোর পরিশ্রম করি। কারণ এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’
৫৩ বছর বয়সী জাকার্তার প্রাক্তন গভর্নর জোকো উইদোদো গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার সাদাসিধে জীবনযাপন, সততা ও কঠোর পরিশ্রমের গুণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিম্ন আয় ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। যদিও তার বিরোধী এ নির্বাচনকে কারচুপির অভিযোগ এনে আন্দোলনে নামেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়া। ২৫ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে ৯০ শতাংশ মুসলিম। দীর্ঘদিন স্বৈরশাসনের অধীনে ছিল দেশটি। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিক থেকে ইন্দোনেশিয়ায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে উদ্বোধনী ভাষণে দেশের ‘উদার ও কার্যকর’ বৈদেশিক নীতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। একইসঙ্গে তিনি ইরাক ও সিরিয়ায় আধিপত্য বিস্তারে নিয়োজিত জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের অংশগ্রহণ বন্ধে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন।
সুসিলো বাঙ বাঙ ইয়াধানো দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর গত নির্বাচনে অংশ নেননি। ইয়াধানোর স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।
তথ্যসূত্র : বিবিসি, এএফপি।

