মাগুরানিউজ.কমঃ
গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকার বাংলাদেশের বিভিন্ন গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছে। গ্রামীণ মানুষেরা যাতে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা পায় সেজন্য এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কাজ করে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় তারা রোগেভোগে প্রতিনিয়ত। জটিল কোন রোগ না হলে তারা সহজে হাসপাতালে আসে না। তাই তাদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য সরকার যে কমিউনিটি কিনিক স্থাপন করেছে তা থেকে গ্রামের দরিদ্র মানুষেরা সেবা পাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
মাগুরা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, মাগুরার চার উপজেলায় প্রস্তাবিত কমিউনিটি কিনিকের সংখ্যা ৯৫ টি। তার মধ্যে চার উপজেলায় চালুকৃত কমিউনিটি কিনিকের সংখ্যা ৮১ টি। বাকি ১৪ টি কমিউনিটি কিনিকের নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সেগুলো চালু হয়নি।
মাগুরা সদর উপজেলায় প্রস্তাবিত কমিউনিটি কিনিকের সংখ্যা ৩৫ টি। তার মধ্যে সদর উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে মোট চালুকৃত কিনিকের সংখ্যা ২৫ টি। চালুকৃত কমিউনিটি কিনিকগুলোর মধ্যে উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর ১টি, মির্জাপুর ১টি, দারিয়াপুর ১টি, আঠারোখাদা ইউনিয়নে আড়াইসত ১টি, আঠারোখাদা ১টি, চন্দন প্রতাপ ১টি, বাগডাঙ্গা ১টি, কছুন্দী ইউনিয়নে বেলনগর ১টি, কছুন্দি ১টি, বগিয়া ইউনিয়নের বরই ১টি,বাগবাড়িয়া ১টি, হাজরাপুর ইউনিয়নে সাচানি রাউতড়া ১টি, গৌরিচরনপুর ১টি, রাঘবদাইড় ইউনিয়নে দোড়ামথনা গ্রামে ১টি, কাজীরাইল ১টি, অন পাড়া ১টি, মঘি ইউনিয়নের সত্যপুর ১টি, রাজিবের পাড়া ১টি, খান পাড়া ১টি, ভাবনহাটি ১টি, জগদল ইউনিয়নে নরসিনহাটি ১টি, ছনপুর ১টি, জাগলা ১টি, চাউলিয়া ইউনিয়নে নিশ্চিন্তপুর ১টি, বলেশ্বরপুর ১টি, ধলহরা ১টি, শত্রুজিৎপুর ইউনিয়নে রুপদাহ ১টি, পয়ারি ১টি, বেরইলপলিতা ইউনিয়নে বড়জোকা ১টি, বামনডাঙ্গা ১টি, কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নে আসবা ১টি, বড়শোলই ১টি, গাংনি ১টি, গোপালগ্রাম ইউনিয়নে গোয়ালবাথান ১টি, গোপালগ্রাম ১টি,
সদর উপজেলা বাদে শ্রীপুর উপজেলায় মোট ৮টি ইউনিয়নে প্রস্তাবিত কমিউনিটি কিনিকের সংখ্যা ১৯টি । তার মধ্যে চালু রয়েছে ১৫টি। এর মধ্যে গয়েশপুর ইউনিয়নে কুশাইছাপুর ১টি, জোকা ১টি, আমলসার ইউনিয়নে বদনপুর ১টি, আমলসার ১টি, কালিনগর ১টি, শ্রীকোল ইউনিয়নে হাট শ্রীকোল ১টি, বরিশাট ১টি, দোসতীনা ১টি, শ্রীপুর সদর ইউনিয়নে চরগোয়ালপাড়া ১টি, গোপালপুর ১টি, চিলগাড়ী ১টি, দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নে চরচৌগাছি ১টি, চরগোয়াদাহ ১টি, কাদিরপাড়া ইউনিয়নে ঘাসিয়াড়া ১টি, কমলাপুর ১টি, সব্দালপুর ইউনিয়নে বাখেরা ১টি, সোনাইকুন্ডি ১টি, নাকোল ইউনিয়নে মধুপুর ১টি, ছফলগাছা ১টি।
শালিখা উপজেলার প্রস্তাবিত কমিউনিটি কিনিকের সংখ্যা ১৮টি। চালুকৃত কিনিকগুলোর মধ্যে ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নে ধনেশ্বরগাতী ১টি, দেবিলা ১টি, সিংড়া ১টি, তালখড়ি ইউনিয়নে ছান্দড়া ১টি, পাথরঘাটা ১টি, দেলুয়াবাড়ি ১টি, দরিলক্ষিপুর ১টি, আড়পাড়া ইউনিয়নে দরিশোলই ১টি, গোপালগ্রাম ১টি, আনন্দনগর ১টি, শতখালী ইউনিয়নে কাতলী ১টি, হরিশপুর ১টি, গোবরা ১টি, শালিখা সদর ইউনিয়নে দক্ষিণ শরশুনা ১টি, বুনাগাতী, বুনাগাতী ইউনিয়নে বাউলিয়া ১টি, ছাবড়ী ১টি, গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে গঙ্গারামপুর ১টি, সাবেকখাটর ১টি,।
মহম্মদপুর উপজেলার প্রস্তাবিত কমিউনিটি কিনিকের সংখ্যা ২৩টি। তার মধ্যে ৮টি ইউনিয়নে চালুকৃত কমিউনিটি কিনিকের সংখ্যা ২০টি। চালুকৃত কিনিকগুলোর মধ্যে বাবুখালী ইউনিয়নে মাধবপুর ১টি, ধুলজুরি ১টি, ডুমুরশিয়া ১টি, বিনোদপুর ইউনিয়নে উরুড়া ১টি, ঘুল্লিয়া ১টি, চৌবড়িয়া ১টি, কানুটিয়া ১টি, দীঘা ইউনিয়নে আওনাড়া ১টি, ঈরিলা ১টি, রাজাপুর ইউনিয়নে রাজাপুর ১টি, নাওভাঙ্গা ১টি, গোবরনাদা ১টি, বালিদিয়া ইউনিয়নে গোপিনাথপুর ১টি, বালিদিয়া ১টি, হরেকৃষ্ণ পুর ১টি, মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নে চরসাচিয়ানি ১টি, ধোয়াইল ১টি, রায়পাশা ১টি, পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়নে ঝামা ১টি, কালীশংকরপুর ১টি, বনগ্রাম ১টি, নহাটা ইউনিয়নে খলিশাখালী ১টি, সালধা ১টি, মোবারকপুর ১টি।
মাগুরা সদর উপজেলার আঠারোখাদা ইউনিয়নের আড়াইশত গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে আড়াইশত সরকারী প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে দানকৃত পাঁচ শতাংশ জমির উপর একটি কমিউনিটি কিনিকের জমি দান করেছেন রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও রনদা প্রসাদ বিশ্বাস। উক্ত কমিউনিটি কিনিকে কর্মরত এফ ডব্লিউএ বিশ্বাস মমতা রাণী জানান, এখানে আমি দীর্ঘ দিন স্বাস্থ্য সেবার কাজ করে যাচ্ছি। এই কিনিকে আমি ছাড়া একজন প্যারামেডিক্যাল ডাঃ মনির ইসলাম ও একজন এইচএ কর্মী কল্পনা শিকদার কাজ করেন।
তিনি আরো জানান, এখানে সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে। আমরা এখানে বিনামূল্যে এই গ্রামের দরিদ্র রোগীদের সেবা দিয়ে থাকি। প্রতিদিন এখানে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী সেবা নিয়ে থাকে।বর্তমান এখানে ওষুধের মধ্যে প্যারামিটামল, হিস্টাসিন, এন্টাসিড, কট্রিম, ভিটামিন-বি কমল্পেক্স সিরাপ, চোখের মলম সরবরাহ আছে।
সেবা নিতে আসা এই গ্রামের একজন বয়স্কা গীতারানী বিশ্বাস জানান, আমরা এখানে ভাল সেবা পাচ্ছি। ডাক্তার খুব মনদিয়ে আমাদের দেখে থাকেন। অন্য একজন রোগী জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস্টিক রোগে ভুগছিলাম তারপর এখান থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে ভাল আছি। যদি এই কমিউনিটি ক্লিনিক না থাকত তাহলে আমাদের দারুণ দূর্ভোগের শিকার হতে হত।
বাংলাদেশের প্রতি ৬০০০ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১টি করে কমিউনিটি কিনিক স্থাপন করেছেন। প্রত্যেকটি কমিউনিটি ক্লিনিকে সার্বক্ষনিক সেবা প্রদান করার জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে জনবল। এতে করে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষ সহজে ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে।

