শোক সাগরে নিমজ্জিত মাগুরার মালিকগ্রাম, না খেয়ে দিন কাটছে ওদের

মাগুরানিউজ.কমঃ 

11034211_16192003416452ui4o8_4267031593851699161_n

এ নিয়ে ৩ লাশ এলো মালিকগ্রামে। একের পর এক লাশ আসছে গ্রামে। আর পুরো গ্রাম যেন ভেঙে পড়ছে কফিনে মোড়ানো লাশ দেখতে।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মালিকগ্রাম গ্রামে এসে পৌঁছায় শ্রমিক মতিন বিশ্বাসের লাশ। এ সময় পরিবার ও গ্রামের মানুষের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে গ্রামের বাতাস।

বিকেল ৫টায় তার নামাজে জানাযা শেষে তাকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়। মতিন শনিবার মধ্যরাতে মারা যাওয়া রওশন বিশ্বাসের ভাইয়ের ছেলে। তার পরিবারের আরো দুজন এখনো মৃত্যু পথযাত্রী।

সেইসঙ্গে একই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে এ গ্রামের আরো ৫ জন ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন। বাকি একজনের বাড়ি মাগুরার শালিখা উপজেলায়।

বিকেলে মালিকগ্রামে গিয়ে দেখা গেল- গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম। হতাহত আট শ্রমিকের বাড়ি পাশাপাশি। 
 
রওশন আলীর মৃত্যুর খবরে বাকরুদ্ধ স্ত্রী শুকুরন্নেছা তিন শিশুসন্তানকে জড়িয়ে শুধু অপলক তাকিয়ে আছেন। একপর্যায়ে ডুকরে কেঁদে উঠে শুকুরন্নেছা শুধু বলেন, ‘ ওনার তো কোনো দোষ ছিল না? ওরা কেন আমাগের সর্বনাশ করল? ওগের কি কোনো বিচার হবে না?  

পাশে রওশনের দুইবোন বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন। উঠানে গড়াগড়ি খেয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

নিহত আবদুল মতিনের স্ত্রী জাহিদা খাতুন বলেন, ‘খুব সকালে বার হয়। বালির কাজ করে দিনে ৩০০ টাকা পায়। তাই দিয়েই কষ্টে সংসার চালাই। এখন আমার সব শেষ। কীভাবে আমরা বাঁচপো? আমাগের আর দেহার কেউ থাকলো না।’

দগ্ধ ইয়াদুলের চাচা তরিকুল ইসলাম কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, ইয়াদুলের কোনো ভাই নেই; ছয় বোন। কাজ শেষে চাল-ডাল কিনে বাড়ি ফিরলে তবেই সবার খাওয়া হতো।’

মাগুরা-যশোর সড়কের মাগুরা সদর উপজেলার মঘিরঢাল এলাকায় শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে ট্রাকে দুটি পেট্রোল বোমা হামলায় চালকসহ ৯ জন শ্রমিক দগ্ধ হন।

এদের মধ্যে রওশন আলী (৪০), শাকিল মোল্লা (২০) ও মতিন বিশ্বাস (২৫) নামে তিনজন মারা যান। অন্য দগ্ধ শ্রমিকেরা হলেন- নাজমুল হোসেন (২৫), নওশের (৪০), ইলিয়াস আলী (৩৫), আরব আলী (২৫), ফারুক আহম্মদ (৪০) ও ইয়ারুল ইসলাম (২৫) তাদের ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

এসব শ্রমিকের পরিবারগুলোর খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে। এ পর্যন্ত সরকারি সহায়তা হিসেবে জেলা প্রশাসন থেকে ১০ হাজার টাকা আর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পরিবার প্রতি এক বস্তা করে চাল দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসার প্রথম ধাক্কাতেই বেশিরভাগ টাকা খরচ হয়ে গেছে। প্রতিদিন চিকিৎসা ও আনুসঙ্গিক খরচ যোগাতে দিনমজুর পরিবারগুলি মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মাগুরা সহকারী পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায় জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে। তদন্তে কিছু সাফল্য থাকলেও আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: