মাগুরানিউজ.কমঃ
প্রচন্ড শীতে কাপছে শালিখাসহ আশপাশের জনপদ। ঘন কুয়াশায় ঠিকমত সুর্য্যের আলো চোখে পড়েনি গত ৫দিন। ঘন কুয়াশার পাশাপাশি মৃদু মৃদু বাতাসে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শালিখা হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসালয়ে শতাধিক মানুষ ভর্তি হয়েছে। তবে বেহালদশার মুখে পড়েছে দরিদ্র পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশু। পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে তারা জবুথবু হয়ে পড়েছে। সেই সাথে অনেকের ভাল বাড়ি-ঘরও নেই। অন্যদিকে শীতে শ্রমজীবি মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। যেকারণে মানবতার জীবন যাপন করতে হচ্ছে তাদের। এনজিও ও সুদ কারবারিদের কিস্তি পরিশোধেও তারা হিমশিম খাচ্ছে। কুয়াশার কারনে যানবাহন চলাচলও অনেকাংশে ঝুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ খুবই জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সরোজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার তালখড়ি, শতখালী, নাঘোসা, দেলুয়াবাড়ি, উজগ্রাম, বাউলিয়াসহ আরো কয়েকটি জনপদের লোকজন আগুন জালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্কুল কলেজসহ কর্মস্থলগুলোতে উপস্থিতি একেবারে কমে গেছে। সেওজগাতী আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন বিশ্বাস জানান, তার স্কুলে গরীব মানুষের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করে। তাদের অনেকের শীতবস্ত্র না থাকায় বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। তিনি ধনীক শ্রেণীর মানুষদের ত্রাণ নিয়ে দরিদ্রের পাশে দাড়ানোর অনুরোধ জানান। বাজারগুলোতে অনেক দেরি করে দোকান-পাট খোলা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সকালে শীতের মধ্যে দোকান খুলে লাভ হয় না। কারণ ক্রেতা আসে না। একদিকে শীত এবং অপরদিকে অর্থাভাবের মুখে মানুষ দিশেহারা বলে মনে করেন তিনি। তবে এনিয়ে এখনো পর্যন্ত সাড়া মেলেনি সরকারি-বেসরকারি কোন সংস্থার। পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, শীতের প্রকোপে মানুষ ছুটে আসছে দোকানে কিন্তু অর্থাভাবে মানুষ প্রয়োজনীয় গরম কাপড় কিনতে পারছে না। আড়পাড়ার কাপড় ব্যবসায়ী বিলাল হোসেন জানান, পরিবহন খরচ বেশি পড়ে যাচ্ছে। তারপর দামও বেড়েছে কিছুটা। যেকারণে দাম কমানোর সুযোগ একেবারেই নেই। এ পরিস্থিতিতে অবহেলিত শালিখার জনপদে ক্রাণ বিতরণ খুবই জরুরি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিত্তবানদের দিকে হতদরিদ্ররা তাকিয়ে আছে।


