মাগুরানিউজ.কমঃ
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজ হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা থাকল না। সরকার যেকোনো সময় ফাঁসি কার্যকরের দিন নির্ধারণ করতে পারবে।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার-প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এখন হাতে দুটি কাজই বাকি আছে। একটি হলো রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন এবং কামারুজ্জামানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ।
তিনি বলেন, রায় কার্যকর করতে নতুন করে পরোয়ানা জারির প্রয়োজন নেই। আর যেহেতু জেল কোড প্রযোজ্য নয়, তাই ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি সরকারের ওপরই নির্ভর করছে। সরকার যখন ইচ্ছা তা কার্যকর করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সময়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
আইনানুযায়ী রিভিউ আবেদন খারিজের সংক্ষিপ্ত রায় বিচারিক আদালত ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে পৌঁছানোর পর সরকার কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর করতে পারবে। তবে কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ পাবেন।
এর আগে জামায়াতের আরেক নেতা কাদের মোল্লার রিভিউ আবেদন খারিজের দিনই ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তিনি অবশ্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেননি।
এ বিষয়ে কামারুজ্জামানের আইনজীবী শিশির মনির রাইজিংবিডিকে বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি কামারুজ্জামানের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়ে ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখেন।
বেঞ্চের অন্য তিন বিচারপতি হলে বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
গত ৫ মার্চ মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদন দায়ের করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবীরা।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ চারজন বিচারপতির স্বাক্ষর শেষে মোট ৫৭৭ পৃষ্ঠার রায়ের কপি প্রকাশ করা হয়।
গত বছরের ৩ নভেম্বর বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সোহাগপুরে গণহত্যার দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ফাঁসির রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। রায়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা বিভক্ত রায় দিয়েছেন।
২০১৩ সালের ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।


