রাজীব মিত্র জয়, মাগুরানিউজ.কমঃ
আগুনে পোড়া মানুষের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা। কিন্তু মাগুরাতে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেই কোন ব্যবস্থা।
সারাদেশে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ বার্ন ইউনিট নেই। এ সংক্রান্ত একমাত্র পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট।
শনিবার রাতে মাগুরার মঘীরঢাল এলাকায় ট্রাকে পেট্রোল বোমা হামলায় দগ্ধ ৯ শ্রমিকের একজন ঢাকা মেডিকেলে আনার পথে মারা যান।
এ ঘটনায় দগ্ধ অপর আট শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাৎক্ষনিকভাবে তাদের মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে দগ্ধদেরকে রাতেই ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। তবে পথেই মারা যান রওশন বিশ্বাস নামে এক শ্রমিক। দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন রওশনের আরো তিন স্বজন।
চিকিৎসাধীন আট জনের মধ্যে ছয়জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতানা রাজিয়া বলেন, ‘৯ জন রোগী পেয়েছি যাদের মধ্যে একজনকে অ্যাম্বুলেন্সেই আমরা মৃত অবস্থায় পেয়েছি, বাকি ৮ জনের ৯৯.৯% মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে।সাথে সাথে চিকিৎসা পেলে ক্ষতির পরিমান কমানো যেতো ‘।
মাগুরা সদর হাসপাতালে পুড়ে যাওয়া রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা (বার্ন ইউনিট) না থাকায় চিকিৎসকেরা এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।
মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক দেবাশীষ বিশ্বাস মাগুরানিউজকে জানান, আগুনে নয়জনই ৬২ থেকে ৮২ শতাংশ পুড়ে গেছেন। তাদের কেউ-ই আশঙ্কামুক্ত নন। মাগুরা সদর হাসপাতালে যেহেতু বার্ন ইউনিট নেই, সেহেতু প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় বিক্ষুব্ধ বাক্যহারা মাগুরাবাসী অতি দ্রুত সরকারর কাছে মাগুরা সদর হাসপাতালে বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছেন।
পরিশেষে, মাগুরা সদর হাসপাতালে জরুরিভিত্তিতে বার্ন ইউনিট প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
রাজীব মিত্র জয়
সম্পাদক, ‘মাগুরানিউজ’.কম।


