মাগুরায় হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

মাগুরানিউজ.কমঃ 

images (11)

মাগুরা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার নামে হয়রানি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না পেয়ে পাটকাঠিবোঝাই এক ট্রাকের চালককে মারধর ও হয়রানি করায় মোটরশ্রমিকেরা গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন।

শ্রমিকেরা জানান, স্বপন বিশ্বাস নামের এক ট্রাকচালক পাটকাঠি বোঝাই করে গত মঙ্গলবার ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মাগুরা রামনগর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অদূরে কেষ্টপুর এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ ট্রাকটি থামায়। হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট মো. নুরুজ্জামান ট্রাকের কাগজপত্র পরীক্ষার নামে চালককে হয়রানি করেন। তাঁর কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। চালক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে মারধর করা হয়। ওই সময় পুলিশের আরও তিন সদস্য ছিলেন। স্বপন বিশ্বাস বিষয়টি মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এসে জানালে ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পুলিশ মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিলে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন।

স্বপন বিশ্বাস অভিযোগ করেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ কাগজপত্র পরীক্ষার নামে রাস্তায় নিয়মিত চাঁদাবাজি করে। আমরা কিছু বলতে গেলেই তারা মারধর করাসহ নানাভাবে হয়রানি করে। মঙ্গলবার বিকেলে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করে।’

মাগুরা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির কারণে আমরা অতিষ্ঠ। ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট ওজিয়ার রহমানের নেতৃত্বে ওই চাঁদাবাজি হয়। আমরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হই। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তা বন্ধ করেছিলাম। পরে পুলিশের অনুরোধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়েছি।’

অভিযোগ সম্পর্কে সার্জেন্ট মো. নুরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেষ্টপুর এলাকায় আমার কনস্টেবল সোহেল লাঠি উঁচু করে ট্রাকটি থামাতে বললে চালক দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ওই কনস্টেবল গাড়িতে লাঠি দিয়ে একটি বাড়ি মারে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাকচালক নেমে আসেন। তিনি (চালক) পুলিশের কাছে কৈফিয়ত চান, কেন বাড়ি মারা হলো। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। ট্রাকটি মাগুরার বলেও তিনি হুমকি দেন। তাঁর কাছে টাকাপয়সা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশ আমাদের নিয়ন্ত্রণে না। তার পরও শ্রমিকদের বলেছি, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে পুলিশ সুপারের কাছে তা দিতে বলেছি। রাস্তা বন্ধ করে মানুষকে হয়রানি না করতে তাঁদের অনুরোধ করেছি। আধা ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা ব্যারিকেড তুলে নেয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: