মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির দৌড়ে ফের যুক্ত হয়েছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে বিভিন্ন ধরণের চাল কেজি প্রতি ২ টাকা থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সরু ও চিকন চাল। যদিও সেই তুলনায় দাম বাড়েনি মোটা চালের। যদিও চালের হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধি স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করছেন সরকারের বাজার কর্মকর্তা। তার কথার সাথে একমত ব্যবসায়ীনেতারা। তবে পূনরায় চালের মূল্য বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন ও মধ্যবৃত্ত পরিবারের।
এখনই মূল্য বৃদ্ধির পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগি সাধারণ ক্রেতারা। এদিকে,হঠাৎ চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে,ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূলত চালের বাজার চড়া। তবে এর নেপথ্যে মিল মালিকরাও যুক্ত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। নতুন ধান না উঠা পর্যন্ত চালের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
মিল মালিক ও চাতাল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিমণ ধানের দাম ২০০ টাকা করে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। মাগুরার একজন মিল মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,দুই সপ্তাহ আগে বাজারে প্রতিমণ মিনিকেট ধান ৮০০-৮৫০ টাকা দরে কেনাবেচা হলেও এখন সেই দাম ১ হাজার-১ হাজার ৫০ টাকায় এসে ঠেকেছে। তারচেয়েও বড় বিষয় হচ্ছে, বাজারে ধানের স্বল্পতা। আমরা চাহিদামতো ধান কিনতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, এখন কৃষকের ঘরের ধান ফুরিয়ে গেছে। বেশিরভাগ ধান এখন ফড়িয়ারা গুদামজাত করে রেখেছেন। হয়তো আরও দাম বাড়লে তারা বেশি করে ধান বিক্রি করবে। আর বাজারে ধানের সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে। গতপরশু খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতিকেজি চালে দাম বেড়েছে গড়ে ২ থেকে ৩ টাকা। ভালো মানের প্রতিকেজি মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। আর নিম্নমানের মিনিকেট চাল ৪৪ এবং নিম্নমানের নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এছাড়া বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪, পাইজাম ৪৬, লতা ৪৮, স্বর্ণা ৩৮ এবং সবচেয়ে মোটা চালের দাম এখন ৩৬ টাকা।
পাইকারী বাজারে মিনিকেট চাল (চিকন) ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ২ শত টাকা থেকে ২ হাজার ৩ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যার প্রতি কেজি পাইকারী মূল্য দাড়ায় ৪২ থেকে ৪৬ টাকা। আর খুচরা বাজারে এই মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা থেকে ৪৮ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে মিনিকেট ৪২ টাকা থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একই ভাবে ২৮ বালাম (এক নম্বর) গতকাল প্রতি কেজি ৪২ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ৪০ টাকায় পাওয়া গেছে। এছাড়া বুধবার খুচরা বাজারে নাজিরশাইল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫৬ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫৩ টাকায়।
মাগুরা চাল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী তসলিম বলেন,বিগত তিন-চার মাস চালের দাম বেশ স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই চালের দাম বেড়েছে কোরবানির ঈদের পর থেকে। আর হঠাৎ করে দাম বাড়ায় প্রতিদিন ক্রেতাদের নানা কথা শুনতে হচ্ছে আমাদের। তাদের ধারণা,আমরাই দাম বাড়িয়েছি চালের। কিন্তু এখানে আমাদের তো কিছু করার নেই। পাইকারি বাজার থেকে বাড়তি দামে কিনে আনায় আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে,চালের দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। মিস্ত্রিপাড়া এলাকার রিকশাচালক হাবিব বলেন,সারাদিনে আমরা রোজগার করি ২শ’ থেকে ৩ শ’ টাকা। এর মধ্যে চাল কিনতেই চলে যায় বেশি অংশ। চালের দাম বাড়লে আমাদের মতো গরিব মানুষেরই বেশি কষ্ট হয়।
যদিও চালের মূল্য বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেছেন জেলা বাজার কর্মকর্তা। এসময় চালের মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক ঘটনা বলে মনে করছেন এই সরকারী কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেন,সব ধরনের চালের দাম বাড়েনি। পাইকারী বাজারে শুধু মাত্র চিকোন চালের দাম কেজিতে ১ টাকা বেড়েছে। সিজন শেষ পর্যায়ে বলে ধানের সরবরাহ কম থাকায় চালের এই মূল্যবৃদ্ধি। নতুন ধান ওঠার সাথে সাথে চালের দাম কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে, হঠাৎ চালের মূল্যবৃদ্ধিতে আতংকের কোন কারণ নেই বলে মনে করেন ধান চাল বনিক সমিতির সভাপতি। তিনি বলেন,ধানের সিজন এখন শেষ পর্যায়ে। নতুন করে আমন ধান উঠতে এখনও ২০ থেকে ২৫ দিন লাগবে। এখন কৃষকের ঘরের ধান ফুরিয়ে আসছে। বেশিরভাগ ধান এখন ফড়িয়ারা গুদামজাত করে রেখেছেন। হয়তো আরও দাম বাড়লে তারা বেশি করে ধান বিক্রি করবে। অভিজ্ঞ এই ব্যবসায়ীর মতে,বাজারে ধানের সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।


