মাগুরায় ভারতীয় চালের বাজার!

মাগুরানিউজ.কমঃ

INDIAn Rice

বিনা শুল্কে চাল আমদানির সুযোগ থাকায় ভারতীয় চালে সয়লাব হয়ে গেছে বাজার। এতে করে ভরা মৌসুমে ধান ও চালের দাম পাচ্ছে না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। তাই,চাতালগুলোয় অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল।

মাগুরা জেলার বাজারসমূহ ভারতীয় চালের দখলে চলে যাওয়ায় দেশী চাল হারিয়ে যেতে বসেছে। দেশী চালের তুলনায় ভারতীয় চালের মূল্য কম হওয়ায় দেশী চালের কদর দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে রীতিমত দেশী চালের বাজারে ধস নেমে এসেছে। এতে রাইস মিল মালিক-শ্রমিক, চাল ব্যবসায়ীসহ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার চাল এলসি নন এলসি ও চোরাই পথে ব্যাপকভাবে এখানে আসায় সংশ্লিষ্টরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারত থেকে আসা মিনিকেট, স্বর্ণাসহ বিভিন্ন চাল কম্পিউটারাইজ এবং দাম কম হওয়ায় ক্রেতারা এদিকে ঝুঁকে পড়ায় মাগুরার রাইস মিলগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে মিলে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে। সাথে সাথে মিল মালিকরা মিল চালাতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা তাদের স্বাভাবিক ব্যবসা চালাতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। মাগুরা বাজারের চাল ব্যবসায়ী অরবিন্দ সাহা জানান, ভারতীয় চাউলে বাজার সয়লাব হওয়ায় দেশীয় চালের ক্রেতা নেই। দেশের স্বার্থে ভারতীয় চাল আমদানি বন্ধ করা উচিত।

মাগুরার বাটিকাডাঙ্গার মিল মালিক মনোয়ার হোসেন, সাজিয়াড়ার মিল মালিক সাবু শরীফ, একই এলাকার মিল মালিক তানজেল হোসেন জানান, মাগুরা হাট বাজারে ভারতীয় চালের ব্যাপক প্রবেশে ঘটায় তারা মিলে ধান ছাঁটাই করতে পারছে না। ফলে মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করে পাইকারদের কাছ থেকে হাজার হাজার মণ ধান কিনে মিলে ফেলে রেখে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এতে ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের টাকার সুদ বেড়েই চলছে।

বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাদের জানান,তিনি ৫ বিঘা জমিতে ধান করেছিলেন। যা উৎপাদন হয়েছে তার সবই চাতালে দিয়েছেন। কিন্তু চাতালওয়ালারা টাকা দিচ্ছে না। তারা চাল বানিয়ে বিক্রি করতে না পারায় দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি। মিলাররা বলেছে,চাল বিক্রি হলে টাকা দেবে।

কেরামত আলী নামে অপর এক কৃষক জানান,ভাদ্রমাসে ধান চাতালে দিয়ে এখনও দাম পাননি। মিলাররা চাল বিক্রি করতে না পেরে গুদামে ফেলে রেখেছে। এখন আমন ধান নিয়েও বিপাকে রয়েছেন তারা। তিনি বলেন,’ইন্ডিয়া থেকে চাল আমদানির কারণেই এই অবস্থা।’

অপরদিকে মিলের সাথে জড়িত শ্রমিকরা বেকার হয়ে অর্থিক সংকটে নিদারুণ সমস্যার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। মিল মালিকরা কাজ না থাকায় মিল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
এ কারণে দেশী চাল এর চাহিদা কমে যাওয়ায় কৃষকরা ধান উৎপাদন করে বিক্রি করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। মাগুরা জেলার মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মাদপুর ও শালিখা উপজেলার হাট বাজারে দেশী চাল বিআর-২৮ প্রতি ৫০ কেজির বস্তা ১৭৫০ টাকা, বিআর- ২৯ প্রতি বস্তা ১৭০০ টাকা। সেখানে ভারতীয় স্বর্ণালী প্রতি বস্তা ১২৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাগুরা জেলা মিল মালিক সমিতির সম্পাদক জানান, জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক রাইস মিল রয়েছে। এসব মিলের মালিকরা এত বড় সমস্যায় কোনদিন পড়েনি। সমস্যা সমাধানে তারা সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

June ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« May    
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
%d bloggers like this: