মাগুরায় খালি হচ্ছে মধুমতির বুক, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বালু খেকোদের ড্রেজার

মাগুরানিউজ.কমঃ

???????????????????????????????

মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতি নদীর বিস্তৃর্ণ এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ভাসমান কার্গোর উপর ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে এবং মোটা পাইপ লাইনের মাধ্যমে ২/৩ কিলোমিটার দূরের নিচু ও জলাভূমি ভরাট করা হচ্ছে মধুমতির বালু দিয়ে। এছাড়া প্রতিদিনই শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে। স্থানীয় একটি সুবিধাভোগি প্রভাবশালী মহলের কারসাঁজিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চললেও প্রশাসন নির্বিকার। অজ্ঞাত কারণে হাত-পা’ গুটিয়ে বসে আছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। ফলে অপ্রতিরোধ্যভাবে বালু উত্তোলন চলছেই। এতেকরে হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী বসতি, নদী শাসন ব্যবস্থা, হাজার হাজার একর ফসলি জমি, নদীর পাড় ও পরিবেশ।

মধুমতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বালু খেকোদের ড্রেজার। শক্তিশালী সংঘবদ্ধ চক্রের বালু উত্তোলন টানা দুই বছর অব্যাহত থাকলেও অজ্ঞাত কারণে স্থানীয় প্রশাসন তা বন্ধে কার্যকরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। ফলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারি চক্র। গত দুই বছরে অবৈধ উপায়ে চক্রটি চুক্তির ভিত্তিতে ২/৩ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকার নিচু ও জলাভূমি ভরাট করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে চক্রটি নির্বিঘেœ বালু উত্তোলন করলেও তা বন্ধে প্রশাসনের ন্যূন্যতম নজরদারি নেই। ফলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছেই। চলছেই মধুমতির বুক উজাড়যজ্ঞ। এ কারণে আগামি বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।
প্রশাসনের কার্যকরি ভূমিকার অনুপস্থিতিতে হাজার হাজার একর কৃষি জমিসহ হুমকির মুখে পড়েছে নদী তীরবর্তী জনপদ, নদী শাসন ব্যবস্থা, হাজার হাজার একর ফসলি জমি, নদীর পাড় ও পরিবেশ। অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপুল উৎস ধ্বংসে প্রভাবশালীচক্র উন্মত্ত্ব হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ।

নদী তীরবর্তী উপজেলার সীমান্তে কালিশংকরপুর থেকে চরসেলামতপুর পর্যন্ত প্রায় ২০টি গ্রাম রয়েছে। ফরিদপুর সীমান্তে অবস্থিত অধিকাংশ গ্রাম উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে মধুমতি নদীদ্বারা বিচ্ছিন্ন। এসব গ্রামগুলো হচ্ছে চরসেলামতপুর, মাধবপুর, পাল্লা, শিরগ্রাম, কাশিপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলনাথপুর, রুইজানী, গোপালনগর, জঙ্গালিয়া, ধুপুড়িয়া, মুরাইল পশ্চিম খন্ড, রায়পাশা, ঝামা, আড়মাঝি, দেউলি, যশোবন্তপুর এবং কালিশংকরপুর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পূর্বপ্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চললেও তা বন্ধে কারো মাথা ব্যথা নেই। ফলে সুবিধাভোগি প্রভাবশালী চক্র নির্বিঘেœ বালু লুট করছে। প্রতিনিয়ত প্রকাশ্য দিবালোকে মধুমতির বুক খালি করা হচ্ছে। স্যালোমেশিন চালিত ড্রেজার ও শ্রমিক দিয়ে উত্তোলিত বালু শুধু মহম্মদপুরে নয়-পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায়ও পৌছে দেয়া হচ্ছে। রাতদিন সমানভাবে বালু তোলার কারণে একটি অসাধু স্বার্থান্বেষী চক্র আর্থিকভাবে পকেট ভারি করলেও নদীর তীর, কৃষকের ফসলী জমি, নদী শাসন ব্যবস্থা, নদী পাড়ের বাসিন্দারা ক্ষতির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানাগেছে, বিগত দুই বছর ধরে মধুমতি নদীর বুক থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। আর্থিক সুবিধা নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকারিদের মদদ দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র। মোটা পাইপ লাইনের মাধ্যমে ড্রেজার দিয়ে মধুমতি থেকে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে ২/৩ কিলোমিটার দূরে। বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে লাখ লাখ টাকা চুক্তিতে তাদের পুকুর, নিচু এলাকা ও জলাভূমি ভরাট করা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়েও পাইপ লাইন স্থাপন করে রাজবাড়ি এলাকার বহূ পুকুর, ডোবা ও জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে।

নদী পাড়ের বাসিন্দা ও উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. নাসিরুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙনের পর স্থায়ী চর জেগে ওঠায় আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির বেশিরভাগ নদী বিচ্ছিন্ন ফরিদপুর সীমান্তে চলে গেছে। অবাধে ও অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদী তীরবর্তী পরিবারগুলোর বসতি এবং নদী শাসন ব্যবস্থা ক্ষতির মুখে পড়ছে। তিনি এ ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু নজরদারি কামনা করেছেন।

দেউলি গ্রামের কৃষক দবির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বালু তুলে নদীর সর্বনাশ করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এ এলাকার আবাদী জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: কামরুল হাসান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলণ করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহ: মাহাবুবর রহমান বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য আমি এক্ষুনি ইউএনওকে বলে দিচ্ছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
%d bloggers like this: