মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় শিম চাষে চলতি মৌসুমে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন জেলার কয়েকটি গ্রামের শিমচাষিরা। এক দশক আগেও যেসব জমিতে ধান-পাটসহ প্রচলিত মৌসুমি ফসলের চাষাবাদে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষি কার্যক্রম, সেখানে আজ মাঠের পর মাঠ করেছেন শিমের চাষ। সনাতনী সেই চাষিরাই এখন সেই জমিতেই বারোমাসি সবজি আবাদ করছেন। মৌসুম শেষে ঘরে তুলেছেন লাখ লাখ টাকা। ফলে বদলে গেছে তাদের জীবনযাত্রার মান।
সরেজমিন মাগুরা শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশের লক্ষ্মীকান্দর, বেলনগর, রামনগরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মাঠে ব্যাপকভাবে শিমের আবাদ করা হয়েছে। দর্শনীয় এসব শিমের মাচাগুলো পথচারীর দৃষ্টি আকৃষ্ট করবেই। সবুজ শিমের গাছের ওপর লাল-সাদা ফুলগুলো প্রকৃতির এক আশ্চর্য সুন্দরের প্রতিনিধিত্ব করছে যেন। লক্ষ্মীকান্দর গ্রামের গোটা মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাটি থেকে সর্বর্োচ্চ তিন ফুট উচ্চতায় পাটকাঠি, সুতলি, জিআই তার ও বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ হচ্ছে শিম, উচ্ছে, শসা, করলা, লাউসহ নানা ধরনের সবজি। এ ছাড়া সমতলে আছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও শালগম। এসব সবজি ক্ষেত গোটা গ্রামটিকেই সাজিয়েছে সবুজের আবরণে।
লক্ষ্মীকান্দর মাঠে চলতে চলতে কথা হয় পঞ্চাশোর্ধ্ব কৃষক-কৃষাণী লক্ষ্মণ বিশ্বাস ও ছায়ারানীর সঙ্গে। তারা জানান, মনের আনন্দে এই বয়সে তারা কোনো কোনো দিন সারা দিন মাঠে শিম তুললেও কোনো ক্লান্তিই তাদের স্পর্শ করতে পারে না। কারণ তারা এসব জমিতে সোনা ফলাচ্ছেন বলেই তাদের কাছে মনে হয়। বেশ সুখেই সংসার চলছে তাদের। কলেজ ও হাইস্কুলে লেখাপড়া করছে তাদের দুই ছেলে এক মেয়ে। এক সময় এসব জমিতে তারা ধান পাট চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বছর শেষে দেখা যেত জমির সেচ, সার ও অন্যান্য উপকরণ মিলিয়ে বিঘাপ্রতি যে খরচ হতো তার সঙ্গে উৎপাদিত ফসলের আর্থিক দূরত্ব খুবই কম। কোনো কোনো বছর উৎপাদন খরচ পর্যন্ত উঠত না। তাই তারা প্রতিবছরের মতো চলতি মৌসুমেও দুই বিঘা জমিতে শিম ক্ষেত করেছেন।
সর্বসাকুল্যে দুই বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। মধ্য মৌসুম পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ মণ শিম তারা তুলছেন তাদের জমি থেকে। আরো বাকি রয়েছে শিম ধরার, তা আরো প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। এর আগে এ জমিতেই তারা উষি ও করলা চাষ করে বিক্রি করেছেন প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এই অধিক লাভজনক হওয়ার কারণে ধান ও পাটের চাষ ছেড়ে তারা এখন আবাদ করছেন উন্নত জাতের নানা সবজি। ১০ বছরে তার বাড়ি খড়ের ঘর এখন ইটের ঘরে রূপান্তরিত হয়েছে।
কৃষক লক্ষ্মণ বিশ্বাস জানান, তাদের উৎপাদিত সবজি জেলার সর্ববৃহৎ সবজি আড়ৎ মাগুরা কাঁচাবাজারে যায়। অনেক সময় দূরের পাইকারি ক্রেতারা ক্ষেত থেকেও সবজি নিয়ে যায়। সেখানে তারা প্রতি মণ শিম ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এ জেলায় উৎপাদিত সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।


