এনার্জি ড্রিংকসের নামে মাদকে সয়লাব মাগুরা, আসক্ত হচ্ছে যুব সমাজ

মাগুরানিউজ.কমঃ

141110-enarjyজুয়েল (ছদ্মনাম) গত দুই বছর ধরে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গত বুধবার তার মা তাকে দেখতে আসলে জানা যায় ছেলের মাদকাসক্ত হওয়ার কাহিনী।

প্রথমে বন্ধুদের সাথে মজা করে বাজারের কোমল পানীয় থেকে শুরু। একসময় এনার্জি ড্রিংকসে রীতিমত আসক্ত হয়ে পড়ে। পরিবারের বাধা নিষেধেও বাধ মানেনি অভ্যাস। একসময় পুরোপুরি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে নাফিজ। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাকে রিহ্যাবে দিতে হয়েছে।

একই পরিস্থিতির শিকার মধ্যবিত্ত পরিবারের ইমতিয়াজ (২৩)। অল্প বয়সেই অসৎ সঙ্গে পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। পিতা স্কুল শিক্ষক বাধ্য হয়ে তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়েছেন। গত দুই বছর ধরে সে রিহ্যাবে রয়েছে। তার পিতা এসব পণ্য নিষিদ্ধের দাবি জানান। শুধু নাফিজ ও ইমতিয়াজ নয় শত শত যুবক এভাবেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। যার শুরু হচ্ছে কোমল পানীয় এবং এনার্জি ড্রিংকস থেকে আর শেষ হচ্ছে ফেনসিডিল-প্যাথেডিনের মত মাদকে।

রকমারী বিজ্ঞাপন আর শ্লোগানে এনার্জি ড্রিংকসের নামে এ্যালকোহল মিশ্রিত কোমল পানীয়তে এখন বাজার সয়লাব। আকর্ষণীয় নামে বাজারে আসা নেশা জাতীয় ও যৌন উত্তেজক এসব পানীয় সহজেই দেশের যুব সমাজকে কাছে টানছে। বিপথগামী হচ্ছে তরুন-তরুনীরা।

মাগুরার একাধিক বাজার ঘুরে জানা গেছে, বাজারে বিভিন্ন নামে ও মোড়কে এ্যালকোহল মিশ্রিত ১১ থেকে ১৫টি এ ধরনের পানীয় বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে দেশীয় পণ্য হিসেবে খ্যাত হারবাল কোম্পানিগুলোর বিএসটিআই’র অনুমোদন নাই। এগুলোর নাম শুনলে মনে হয় ঔষধী গুণে সমৃদ্ধ। এগুলোর দাম সর্বনিম্ন ৪০-১৩৫ টাকা পর্যন্ত। ২৫০ ও ৩০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক ও ক্যানে পাওয়া যায়। আতর আলী রোডের ছোট বড় দোকান ঘুরে এ তথ্য পাওয়া যায়। শহরের অধিকাংশ বেকারী ও মুদি দোকানে এ জাতীয় হারবাল ড্রিংকস পাওয়া যায়। তবে এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি ড্রিংকস থাইল্যান্ড, হল্যান্ড ও জার্মানী থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। এদিকে এ ধরনের পণ্য দ্বারা মাদকাসক্তের পরিমান বাড়লেও একমাত্র সরকারি নিরাময় কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে।

একটি বেসরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের ম্যানেজার বলেন, এ জাতীয় ড্রিংসগুলো যৌন উত্তেজক ও এ্যালকোহলের পরিমান বেশী থাকে বলে নানাবিধ রোগসহ স্বাস্থ্যহানি ঘটতে পারে। আমাদের কাছেও এ ধরনের রোগী অনেকেই আসছেন যারা এনার্জি ড্রিংকের মাধ্যমে নেশাক্ত হয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ ও স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ ধীরাজ মোহন বিশ্বাস বলেন, ‘আমি জানি না মানবদেহের ক্ষতিকারক এসব এনার্জি ড্রিংকস কিভাবে বাজারজাত হয়। সরকারের বিএসটিআই, ফুড এন্ড ড্রাগস, ভোক্তা অধিকার, ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ অন্যান্য বিভাগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। এগুলো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ জাতীয় ড্রিংকসগুলো সেবনে লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

বিএসটিআই’র পরিচালক আব্দুল বারী বলেন, ‘এগুলো দেখার দায়িত্ব বিএসটিআই’র নয়। তাছাড়া হারবাল এনার্জি ড্রিংকসের ক্ষেত্রে অনুমোদন লাগে না বিধায় ফুড এন্ড ড্রাগস এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারবে।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

ফেসবুকে আমরা

বিভাগ

দিনপঞ্জিকা

October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
%d bloggers like this: