মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরায় চলতি মৌসুমে মসুর ডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবারে জেলার চার উপজেলায় লক্ষ্যের চেয়ে অধিক জমিতে শস্যটির আবাদ হয়েছে। স্থানীয় বাজারে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন মসুরের বিকিকিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মসুর ডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১৪ হাজার ৭০৯ হেক্টর জমি। চাষ হয়েছে ১৭ হাজার ৫০৫ হেক্টরে, যা লক্ষ্যের তুলনায় ২ হাজার ৭৯৬ হেক্টর বেশি। চলতি মৌসুমে জেলার চার উপজেলার মধ্যে সদরে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টরে, শ্রীপুরে ৩ হাজার ৫, শালিখায় ৪ হাজার ৫০০ ও মোহম্মদপুরে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টরে শস্যটির আবাদ হয়েছে। এর বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে ১৮ হাজার ৮২৮ টন মসুর ডাল।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চফলনশীল জাতের মধ্যে জেলার কৃষকরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি-৪, ৫ ও ৬ এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বিনা-৩, ৪ জাতের উচ্চফলনশীল মসুর ডালের চাষ করেছেন। উচ্চফলনশীল এসব জাত থেকে স্থানীয় জাতের তুলনায় দুই গুণের বেশি ডাল উৎপাদন হয়ে থাকে। স্থানীয় জাতে যেখানে হেক্টরপ্রতি মসুর ডাল উৎপাদন হয় দশমিক ৫ থেকে দশমিক ৬ টন। সেখানে একই পরিমাণ জমিতে বারি ও বিনা উচ্চফলনশীল জাতের মসুর উৎপাদন হয়ে থাকে ১ দশমিক ৫ টন।
সদর উপজেলার আড়াইশত গ্রামের কৃষক শচীন বিশ্বাস। তিনি বলেন, এবারে মসুর ডালের ভালো ফলন হয়েছে। অন্যান্য বছর স্থানীয় জাতের মসুর চাষ করে এক বিঘায় আড়াই থেকে তিন মণ ফলন পেতেন। এবার স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এক বিঘায় বারি-৩ জাতের মসুর ডাল প্রর্দশনী ক্ষেত করে পাঁচ মণ ফলন পেয়েছেন।
মাগুরা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার চক্রবর্তী জানান, চাহিদার কথা মাথায় রেখে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে জেলার অধিকাংশ জমিতে উন্নত জাতের মসুর চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। যেখানে প্রতি একরে সাধারণ জাতের মসুর উৎপাদন হয় পাঁচ থেকে ছয় মণ, সেখানে বারি ও বিনা- জাতের উচ্চফলনশীল ডাল উৎপাদন হয় ১২ থেকে ১৫ মণ। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তিতে সুইং পদ্ধতিতে (ধানের মতো লাইন) শস্যটির আবাদ করলে প্রতি একরে ২০ মণের বেশি ডাল উৎপাদন হয়। এজন্য কৃষকদের মাঝে কৃষি বিভাগ কর্তৃক উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া হয়েছে। উন্নত জাতের এ মসুর ডালের চাষ বাড়াতে বর্তমানে কৃষকদের বীজ সংরক্ষণের জন্য প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ফলে উন্নত জাতের এ মসুর ডাল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে।



