মাগুরানিউজ.কমঃ
“এখানে এক নদী ছিলো”… মধুমতি তার নাম। হ্যাঁ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার প্রাণ প্রমত্তা মধুমতির আজ মরণদশা। বইয়ের পাতায় আজও নদীমাতৃক বাংলাদেশ। কিন্তু বাস্তবে নদীগুলোর মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। এখন শুধুই পড়ে আছে শবদেহ।
ডাইনিং টেবিলে নাস্তা খেতে বসে চোখ গেলো সকালে দিয়ে যাওয়া খবরের কাগজখানির দিকে । ভেতরের পুরো একটি পৃষ্ঠা জুড়ে চরম ভয়াবহ একটি বিষয়ের উপর অনেকগুলি সংবাদের দিকে চোখ আটকে গেলো । বড় বড় হরফে একটি শিরোনাম – “ এখানে এক নদী ছিলো” কাব্যিক এই শিরোনামের ভেতরে এক মহা-বিভীষিকাময় আর আতঙ্কিত হওয়ার মতো সংবাদটি আমাকে টেনে নিয়ে গেলো মাগুরার মহম্মদপুরে।
মৃত প্রায় মধুমতি। অপরিকল্পিত বাধ, মহাসড়ক, ক্রস বাধ, স্থাপনা নির্মান করে মধুমতির চলা থামিয়ে দেয়া হয়েছে । বিলুপ্তির পথে এর বিশাল মৎস সম্পদ ।
সব মিলিয়ে শুধু ভয়ঙ্কর একটি ভবিষ্যতের ছবি মাথার ভেতরে খেলে গেলো । আমি কোনও বিশেষজ্ঞ নই । নদীর উৎসমুখে পলি জমে কিভাবে নদীর স্রোতধারা কমে আসে, কিভাবে নদী ভাঙ্গনে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয় আর এতে কি ভাবেই বা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, কিভাবেই বা জীব-বৈচিত্র হারিয়ে যায়, কি ভাবেই বা অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা আদায় করতে হয় ইত্যাকার বিষয়ে আমার জানা নেই । শুধু জানি, নদী হারিয়ে যাচ্ছে।
আদিগন্ত বিস্তৃত শষ্যের ক্ষেত। তার মাঝে দিয়ে এলিয়ে থাকা শীর্ণ পানির ধারা । যেন থাকতে হয় তাই থাকা । এগুলি একসময় শাখা নদী ছিলো । রাস্তার পাশ ঘেসে বয়ে চলা একসময়ের প্রশস্ত খালগুলি ভরাট হয়ে গাঢ় সবুজ ধানের বীজতলা হয়ে উঠেছে । কেবল এখানে ওখানে পানির ছোপ । মাটিতে ডুবে থাকা দু’একটা নৌকার গলুই মাথা তুলে আছে এখানে সেখানে। এই পথে যতোগুলি কালভার্ট দেখলাম তার ৯৫% এর কোথাও পানি নেই । শুকনো মাটিতে আগাছার মাথা তোলা কিম্বা সব্জীর ক্ষেত। দেখলেই বোঝা যায়, অনেক ভরা যৌবন ছিলো একদিন তাদের। যেটুকু পানির দেখা মিলছে, গুটিকয়েক বছর গড়াতেই উধাও হয়ে যাবে তাও । তখোন এই পথে যেতে যেতে আমারই মতো কেউ একজন আঙ্গুল তুলে তার সন্তানকে বলবে – “এখানে এক নদী ছিলো” ।




