মাগুরানিউজ.কমঃ
মাগুরার শালিখায় কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বাল্যবিয়ে। নানা কৌশল অবলম্বন করে একের পর এক চলছে এ বিয়ে। ১৮ বছর পূর্ণ না হলে কোনো মেয়ের বিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিভাবক ও রেজিস্টাররা এ আইনের তোয়াক্কা না করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে যাচ্ছে।
বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন রোধে শালিখা উপজেলাতে শিশু নিলয়, রোভা ফাউন্ডেশন, ব্র্যাকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও তাদের কার্যক্রম একেবারেই প্রশ্নবিদ্ধ। মূলত প্রজেক্টের টাকা হাতানোই তাদের মূল কাজ বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।। যার ফলে গ্রামের অভিভাবকরা দুর্নীতিপরায়ন জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে যখন তখন জন্মসনদ তৈরি করে, কখন বা রেজিস্টারদের পরামর্শে কম্পিউটার থেকে জন্ম সনদ স্ক্যানিং করে জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করছে। ফলে সরকারি উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনই ১০-১২ বছর বয়সে বিয়ে ও সন্তান ধারণ করে কিশোরী বয়সে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে অসংখ্য কিশোরী।
শুধু ২০১৪ সালেই উপজেলায় কমপক্ষে শতাধিক বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কয়েকটি বিয়ে বন্ধ হলেও তার কয়েকটি আবার পরবর্তীতে অন্য কৌশলে বিয়ে হয়েছে।
এদিকে এফিডেভিটের মাধ্যমেও অনেক বিবাহ হচ্ছে। একজন আইনজীবীর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করতে বয়স প্রমাণের জন্য কোনো কাগজপত্র দেখাতে হয় না। তাই অনেকেই এ পদ্ধতি অবলম্বন করছে। এভাবে বাল্যবিয়ে চলতে থাকলে দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ যেমন ব্যাহত হবে তেমনি মাতৃত্বকালীন মৃত্যু ঝুঁকি ও নারীশিক্ষার চরম বিপর্যয় ঘটবে।

