মাগুরানিউজ.কমঃ
জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ কত কী না করছে। মাগুরা শহরে কাঁঠালের পাতা বেচে সংসার চলছে সোয়াদদের পরিবারের। মা-বাবা আর দুই ভাই, সোয়াদদের পরিবারের সদস্যসংখ্যা মাত্র চার। বসবাস ভাড়া বাসায়। জায়গা-জমি নেই। ‘কাঁঠালের পাতা বিক্রি করে যে টাকা আয় হয়, সেই টাকা দিয়ে চলে আমাদের সংসার’ জানাল ১০ বছরের সোয়াদ।
মাগুরা শহরের সদর হাসপাতালের পাশে কাঁঠাল পাতা বিক্রি করছিল সোয়াদ। সেখানেই আলাপ হলো ওর সঙ্গে। মাগুরা শহরের মহিলা কলেজের পাশেই ভাড়া করা বাসায় বাস করে সোয়াদরা। বাবা রওশন আলী। বড় ভাই জুয়েল হোসেন।
রওশন আলী সংসার চালানোর তাগিদে দুই ছেলে নিয়ে কাঁঠালের পাতা বিক্রি করেন। প্রতিদিন তিনি গ্রামে বেরিয়ে পড়েন কাঁঠালের পাতার সন্ধানে। আর সঙ্গে নিয়ে যান বড় ছেলে জুয়েলকে। তবে প্রায় দিনই সকালে ছোট ছেলে সোয়াদকে পাতা বিক্রির কাজে রেখে যান।
সোয়াদ জানায়, সে শহরের নতুন বাজার ব্রিজের কাছে একটি স্কুলে নার্সারি শ্রেণিতে পড়েছে। স্কুল কামাই করলে স্যাররা বকাবকি করেন। আর পাতা বিক্রির কাজে সময় না দিলে বাবা বকাবকি করেন। এ কারণেই লেখাপড়া করা হয়নি।
এ কাঁঠালের পাতা তাদের গ্রাম থেকে কিনে আনতে হয়। কাঁঠাল গাছের পাতার ধরন বুঝে গাছের মালিককে টাকা দিতে হয়। সোয়াদ জানায়, মা শাবানা খাতুন লেখাপড়া জানেন না। তার স্কুলে পড়ালেখা করার ইচ্ছে থাকলেও অভাব-অনটনের এ সংসারে তা সম্ভব হচ্ছে না।


